ছররা গুলিতে আহত দিল্লির শিল্পী

33

নিউজ ডেস্ক: সরকার বা দিল্লি পুলিশ যতই বলুক না কেন যে ২০ জুলাই পড়ুয়াদের সংসদ চলো অভিযানে কোনও ছররা গুলি চালানো হয়নি, বাস্তব কিন্তু অন্য কথা বলছে। দিল্লির ২৮ বর্ষীয় শিল্পী প্রশান্ত কুমার সিংয়ের মেডিকো-লিগ্যাল রিপোর্টে স্পষ্ট লেখা হয়েছে ছররা গুলির আঘাতের কথা। এখানেই শেষ নয়, প্রশান্ত জানিয়েছেন, অন্তত ছয়জন ছররা গুলিতে আহত।
দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থান-ধর্না-বিক্ষোভের শুরু থেকেই ছিলেন প্রশান্ত কুমার সিং। প্যাস্টেল, জলরং, তেলরংয়ে ছবি এঁকে বিক্ষোভ-অবস্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি এঁকেছেন তিনি। যে হাত দিয়ে এতদিন ছবি আঁকতেন প্রশান্ত, সেই হাতেই ছররা গুলি লেগেছে।


২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে ছররা গুলিতে আহত পাঁচজনের খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু প্রশান্তর দাবি আরও একজন আহত হয়েছে ছররা গুলিতে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছররা গুলি শরীর থেকে বের করা হলেও এখন হাত নড়াচড়া করলে ধাতব গুলির অস্তিত্ব টের পান প্রশান্ত।
সংসদ চলো অভিযানে আহত হওয়ার পর দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রশান্তকে। তাঁর রিলিজ রিপোর্টে লেখা রয়েছে ছররা গুলির কথা। এমনকি প্রশান্তর এক্স-রে প্লেটে ধরা পড়েছে অন্তত ১০টি ছররা গুলির আঘাত।
দিল্লির ময়ূর বিহারে থাকলেও প্রশান্তর আদি বাড়ি বিহারে। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরুর পর তিনি একদিন অন্তর সেখানে যেতেন। সঙ্গে থাকত জলরং, তেলরং, ক্যানভাস, কাগজ। সমাবেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি আঁকতেন প্রশান্ত।
২০ জুলাই সংসদ ভবনের ৫০ মিটারের মধ্যে চলে গিয়েছিলেন প্রশান্ত কুমার সিং। সেখানে তখন ভাষণ দিচ্ছিলেন সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ। তাঁর কথায়, ওখানকার পরিবেশ মোটেও হিংসাত্মক ছিল না। কিন্তু দিল্লি পুলিশ এবং RAF লাঠি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের কনট প্লেসের দিকে সরিয়ে দেয়। প্রশান্তরা চলে আসেন মহাত্মা গান্ধীর রোডের দিকে। ব্যারিকেড ছিল, পুলিশ বলেছিল কাছাকাছি না আসতে। প্রশান্তর কথায়, এরপরই পুলিশ প্যালেট গান চালায়। তার আগে কোনও ঘোষণা বা সতর্কতা জারি করেনি। আমার বুকে ও ডান হাতে ছররা গুলি লাগে। এ ছাড়া পুলিশ তখন কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছিল। আমার সঙ্গে আরও একজনের গায়ে ছররা গুলি লাগে। লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে আমার সঙ্গে তিনিও এসেছিলেন, কিন্তু তাঁর নাম আমি জানি না, বলেছেন প্রশান্ত।
লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে প্রশান্তর ডানহাতের ওপরে যেসব গুলি লেগেছিল সেগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ পর প্রশান্ত যান লোকনায়ক হাসপাতাল এবং তারও পরে হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে। সেখানে দেখা যায় তাঁর ডানহাতের ভেতরে ধাতব ছররা গুলি রয়েছে। ২৯ জুলাই তাঁর অস্ত্রোপচার হয়।
প্রশান্ত সহ ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন সাহিল লোচাব, যাঁকে রাহুল গান্ধী সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির করেছিলেন। ছররা গুলিতে আহত হন শেখ ইর্শাদ মনসুরি। এ ছাড়া ছররা গুলিতে আঘাত পান রাঁচির ৩২ বর্ষীয়া নূতন। এবং দিল্লির বাসিন্দা ইমরানের আঘাত লাগে ছররা গুলিতে।
সংসদ চলো অভিযানের ক্ষেত্রে প্রথমে ছররা গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেনি দিল্লি পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভের দুদিন পর, ২২ জুলাই, দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় ছররা গুলি চালানো হয়েছে বলে রিপোর্টে লেখে RAF বাহিনীর জওয়ান।