অরুণাচলের ২৭ জায়গার নাম নিয়ে চাপানউতোর ভারতের নাম দেওয়া জায়গার বিরোধিতা চিনের
নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি জায়গার নামকরণ করেছে ভারত। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপত্র গুয়ো জিয়াকুন ভারতের নামকরণ নিয়ে বলেছেন, যেসব জায়গা বহুকাল ধরে চিনের অংশ সেখানে নতুন নামকরণ বেআইনি এবং ভিত্তিহীন। যদিও তিনি অরুণাচল প্রদেশের নাম উল্লেখ করেননি। চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে জিয়াকুনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনও ঘটনাই এটা মিথ্যে প্রমাণ করতে পারবে না যে জাংনান অঞ্চল চিনের অংশ। তিব্বতকে জিঝাং এবং অরুণাচল প্রদেশকে জাংনান বলে চিনারা।
অরুণাচল প্রদেশের কিছু জায়গার মালিকানা নিয়ে ভারত-চিনের মাঝে বহুদিন ধরে বিতর্ক চলছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে অরুণাচল প্রদেশের ওপর নিজেদের অধিকার দেখাতে সেই রাজ্যের ৩০টি জায়গার চিনা নাম রেখেছিল বেজিং। নাম বদলের তালিকায় ‘জাংমান প্রদেশ’-এর ১১টি আবাসিক এলাকা, ১২টি পাহাড়, চারটি নদী, একটি হ্রদ, একটি গিরিপথ এবং একটি উপত্যকা ছিল।
যদিও ভারত সরকারের পক্ষে বারবার বলা হয়েছে অরুণাচল প্রদেশের ভারতর অংশ ছিল,আছে এবং থাকবে। কিছুদিন আগে চিন অধিকৃত তিব্বত এবং অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ২৭টি জায়গার নামকরণ করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
সার্ভে অফ ইন্ডিয়া প্রকাশিত অরুণাচল প্রদেশের মানচিত্রে ওই নামগুলি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই ২৭টি জায়গার মধ্যে রয়েছে ‘বিতর্কিত’ গ্রাম লংজু। এই জায়গাটি ১৯৫৯ সাল থেকে চিনের দখলে রয়েছে। যদিও ভারতের দাবি ওই গ্রাম ভারতীয় ভূখণ্ডের অন্তর্গত। গত শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে ভারত সরকার সার্ভে অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত অরুণাচল প্রদেশের মানচিত্রে ২৭টি স্থান চিহ্নিত করেছে।
সার্ভে অব ইন্ডিয়ার মানচিত্রে চিহ্নিত স্থানগুলোর মধ্যে ২১টি আবাসিক ভূমি, চারটি গিরিপথ, একটি হ্রদ এবং একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। ভূমি এলাকার মধ্যে রয়েছে লংজু, মাজা, বিসা, বড়া কুন্দুন, ছোটো কুন্দুন, ধানবাড়ি, প্রীতনগর, বুদ্ধমন্দির, জয়রামপুর, তেরিতনগর, রামনগর, যশবন্ত গড়, সাগর, পদ্মা, জ্যোতিনগর, বৈশাখী, ছোটো রোপুক, বড়া রোপুক, শিবাজি নগর, সুনপুরা এবং কামলাং নগর।