পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: খাম প্রতীক নিয়ে আইএসএফ-এর মামলা খারিজ কলকাতা হাইকোর্টের। মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল সোমবার। রায়দান স্থগিত ছিল। আজ বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানিয়ে দেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না। তাই মামলাটি খারিজ করা হয়।
উপনির্বাচনে আই এস এফ-কে আলমারি প্রতীক নিয়েই লড়তে হবে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস লড়বে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ‘খাম’ প্রতীকে।
খাম প্রতীক নিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল আই এস এফ। কিন্তু নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসকে খাম চিহ্ন দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাই প্রতীক ফিরে পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকীরা।
কিন্তু সেই মামলা আজ খারিজ হয়ে যায়।
শুনানি পর্বে আদালতে তীব্র ভৎর্সনার মুখে পড়তে হয় নির্বাচন কমিশনকে। সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেছিলেন, ‘হাইকোর্ট ইসির কাজে ভাবিত। কর্তৃপক্ষকে এমন ভাবে কাজ করতে হবে যাতে পরে তাদের সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে না পড়ে। আই এস এফ-এর আগের প্রতীক পাওয়ার অধিকার হয়তো নেই, কিন্তু তারা সেই প্রতীক চেয়েছে। তা সত্ত্বেও অন্য একটি দলকে কী ভাবে সেই প্রতীক দেওয়া হলো?
বিচারপতি রায় পর্যবেক্ষণ করেন, ডেমক্র্যাটিক তৃণমূল খাম প্রতীকের জন্য আবেদন করেছিল এবং কমিশন তা অনুমোদন করেছে, এটা বোঝা গেল। কিন্তু আই এস এফ-ও আবেদন করেছিল। সেই আবেদন বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তার নথি কোথায়?
কমিশনের যুক্তি- সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচনের পরিস্থিতি এক নয়। ভোটের ফল প্রকাশের সঙ্গে একটি নির্বাচন শেষ হয়ে যায়। আর ‘ফ্রি সিম্বল’ দেওয়ার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের। কোনও রাজনৈতিক দলেরই কোনও প্রতীকের উপরে মালিকানা বা অধিকার নেই।
সব শোনার পর সোমবার মামলার রায়দান স্থগিত হয়ে যায় ।আজ সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। উপনির্বাচনে আই এস এফ -কে ‘আলমারি’ প্রতীকেই লড়তে হবে।