পৃথা দাশগুপ্ত: কলকাতা হাইকোর্টে দুর্গাপূজা করার অনুমতি চেয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল আগেই। সেই মামলায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ জনস্বার্থ মামলার আবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন। দাবি করেন, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত । সকল ধর্মের মানুষের ধর্মচারনের অধিকার আছে। তাঁর মনে হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টে নিরপেক্ষতা বজায় থাকছে না। কারণ, প্রতি শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে প্রার্থনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে। তাই সংবিধানের রীতি মেনে কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে একটি ভারত মাতার মন্দির ও দুর্গা পুজো করার অনুমতি দেওয়া হোক।
মামলাকারী রাজ্যপাল, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আবেদনে কেউ সাড়া দেয়নি।
প্রধান বিচারপতি ঘুগের পর্যবেক্ষণ ছিল, এটি কখনো জনস্বার্থ মামলা হতে পারে না। এটি এক শ্রেণির স্বার্থ সংক্রান্ত মামলা বলা যেতে পারে। কলকাতা হাইকোর্টে যে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে হয় সেটা পার্সোনাল ইন্টারেস্ট বা কোনটা পাবলিসিটি ইন্টারেস্ট। আজ মামলার শুনানি ছিল। প্রধান বিচারপতির রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়ের প্রশ্ন, “হাইকোর্টের ছাদে নামাজের অনুমোদন আছে? ওখানে কি কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায় প্রার্থনা করেন? হাইকোর্ট রেজিস্ট্রারকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা করতে হবে।” আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে এই রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।