বন্যাত্রাণের টাকা পাবে এক লক্ষ পরিবার

25

নিউজ ডেস্ক: অসমে ভয়ংকর বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ১০৩ জনের, বহু পরিবার সব হারিয়ে এখনও রয়েছেন আশ্রয় শিবিরে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উজান অসমের শিবসাগর, গোলাঘাট, চরাইদেও এবং যোরহাট জেলা। বন্যাক্রান্ত পরিবারকে এককালীন ১৫ হাজার করে টাকা দিচ্ছে সরকার। প্রথম দফায় এই সহায়তা পেয়েছে ৬৫ হাজার পরিবার। দ্বিতীয় দফায় পাবে উজান অসমের চার জেলার প্রায় ৩২ হাজার পরিবার। তৃতীয় দফায় শিবসাগরের আরও তিন হাজার পরিবার এই সুবিধা পাবে, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার।
বন্যাক্রান্ত পরিবারগুলিকে ১৫ হাজার টাকা সহায়তা করতে অসম সরকারের খরচ হচ্ছে ১৪৫ কোটি টাকা। ত্রাণের টাকা প্রায় সবই বণ্টন করা হয়ে গেছে, শুধু শিবসাগর বিধানসভার কয়েক হাজার পরিবারের মূল্যায়ন বাকি রয়েছে জানিয়ে হিমন্ত বলেন, শিবসাগরের আরও তিন-চার হাজার পরিবার তৃতীয় দফায় এই আর্থিক সহায়তা পাবেন। তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
হিমন্ত বলেছেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট ও গোলাঘাট জেলা। এই পরিস্থিতিতে বন্যার্তদের সবচেয়ে বেশি দরকার অর্থ। এই চার জেলার অরুণোদয় সুবিধাভোগীদের এককালীন আড়াই হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে।
চার জেলায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে কাজে লাগানো হয়েছে ১,১৪৪ শিক্ষককে। সরকারি পোর্টালে ইতিমধ্যে ২৬,৬৮১ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও বিধ্বস্ত ১৮,৮৮৭ গোয়ালঘরের খুঁটিনাটি আপলোড করা হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ছয় লক্ষ গৃহপালিত জীবজন্তু। এখন পর্যন্ত প্রায় এক লক্ষ কৃষককে চিহ্নিত করা হয়েছে যাদের কৃষিজমির ফসল ভেসে গেছে বন্যার তোড়ে। এ ছাড়া ক্ষতি হয়েছে ফিশারির, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এমাসেই শেষ হবে। তারপর আসবে ক্ষতিপূরণের পালা। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিন থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল্যায়ন, বলেন হিমন্ত। দুর্গাপুজোর আগেই যাতে বন্যার্তদের প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ সরাসরি দেওয়া যায় সেটা সরকার নিশ্চিত করবে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের প্রথম পর্যায়ে ইতিমধ্যে ৪৮০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রিপোর্ট এসেছে।