নিউজ ডেস্ক: খাসি ছাত্র সংস্থার (কেএসইউ) কালো পতাকা নিয়ে বাইক মিছিল উত্তপ্ত হয়ে উঠল শিলংয়ে। পুড়ল বেশ কয়েকটি গাড়ি, ভাঙচুর দোকানপাট। তারপর খাসি ছাত্র সংস্থার অন্তত তিনজন নেতাকে গ্রেফতার করেছে মেঘালয় পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন খাসি ছাত্র সংস্থার সভাপতি রেমন্ড খারজানা।
খারজানা ছাড়া খাসি ছাত্র সংস্থার সহ-সভাপতি পায়েনকেমলাং সানমিয়েত এবং সাধারণ সম্পাদক রেবুন নাজিয়ারকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে সদর থানায়। এই তিন নেতাকে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, সাধারণ নাগরিকের ওপর অত্যাচার প্রভৃতি ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে, জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার রাতে খাসি ছাত্র সংস্থার বিক্ষোভে অন্তত ৩১টি গাড়ি জ্বালানো হয়েছে। এ ছাড়া বহু সাধারণ নাগরিক আহত, দাবি পুলিশের। শিলংয়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাথর ছোড়া ও গোলমালের খবর এসেছে। মেঘালয়ের বাইরের নম্বর প্লেটওয়ালা গাড়িগুলিই আক্রমণের লক্ষ্য ছিল, দাবি পুলিশের। এইসঙ্গে জ্বালানো হয়েছে মেঘালয় সরকারের একটি গাড়ি। যাত্রীবাহী বাসেও পাথর ছোড়া হয়েছে।
খাসি ছাত্র সংস্থা গত ৪ আগস্ট মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার কাছে পাঁচ দফা দাবি করেছিল। দাবি পূরণের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল ১৫ দিন। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে মেঘালয়ের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আইন তৈরি, ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের জন্য নিয়মনীতি, সরকারি চাকরিতে সংস্কার এবং নর্থ-ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওন্যাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল সায়েন্সে নিয়োগে স্বচ্ছতা।
গত ৩১ জুলাই মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ে প্রস্তাবিত শ্রী সিমেন্ট প্রকল্পের শুনানি হয়েছিল। সেই শুনানিও বাতিলের দাবি করেছে খাসি ছাত্র সংস্থা। তাদের দাবি, শুনানিতে অত্যধিক বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। এ ছাড়া রয়েছে চিরাচরিত দাবি, মেঘালয়ের জন্য ইনার লাইন পারমিট বা আইএলপি।
বুধবার বিকেল থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি জ্বালানো, দোকান ভাঙচুর, পাথর ছোড়ার ঘটনা সামনে আসে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানো গ্যাল ছোড়ে। বেশি রাতে জাইওয়ায় খাসি ছাত্র সংস্থার কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
Next Post