নিউজ ডেস্ক: জনসেবায় ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে আমরা এটা করবই স্লোগান। সেবাই আমার ধর্ম কিংবা আকাঙ্ক্ষা নয়, উদ্দেশ্যর জন্য জীবন প্রভৃতি কথা বললেও আমরা এটা করবই স্লোগানই দর্শকদের থেকে বেশি হাততালি পেয়েছে।
গুজরাটে ২০১১ সালে ৭ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। তারপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
মোদী বলেছেন, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর, যখন আমি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম, তখন ভাবিনি যে এমন একটি মাইলফলক একদিন অর্জিত হবে। আজ, মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার নিরবচ্ছিন্ন সেবার ২৫ বছর পূর্ণ হল। জনগণের নিরন্তর আশীর্বাদের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। আমি ভারতের জনগণ, বিজেপি, এনডিএ এবং গণতন্ত্রে গভীর আস্থাশীল সকল রাজনৈতিক সহকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মোদীর জনসেবার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেবা সংকল্প অভিযান-এর অংশ হিসেবে বিজেপি আয়োজিত বিকশিত ভারত সংকল্প সভা-য় তাঁকে এক বিশাল সংবর্ধনা জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘আমরা এটা করবই’ স্লোগান দিয়ে দেশের বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে নতুন উদ্দীপনায় উজ্জীবিত করার প্রয়াস করেছেন। মোদী যখন তিনটি বড় লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করেন; সেসময় নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে সমবেত বিশাল জনতা সমস্বরে “আমরা এটা করবই” বলে সাড়া দেয়।
২৫ বছর আগে মোদী প্রথমবারের মতো গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর কেশুভাই প্যাটেলের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি সেখানকার ১৪তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংকল্প ও নতুন উদ্দীপনা সঞ্চারের এই মুহূর্তটি এমন এক সময়ে এল, যখন মোদী সরকার অন্যতম কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
জুলাই মাসে আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। এসআইআরকে কেন্দ্র করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা ফের রাস্তায় নেমেছে।
মোদী ভারতের অর্থনীতি, মহাকাশে মানুষ পাঠানো এবং অলিম্পিক গেমস আয়োজনের বিষয়ে তিনটি বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
এই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করা। অলিম্পিক আয়োজন এবং মহাকাশে ভারতের পদার্পণের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে মোদী ‘বিকশিত ভারত’-এর রূপরেখাও তুলে ধরেন।
ভাদনগরে কাটানো স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, যারা খুব সকালে স্কুলে পৌঁছত, তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, আমার মনে পড়ে, ভাদনগরে স্কুলে যাওয়ার সময় শিক্ষক আমাদের নানা বিষয় শেখাতেন; আর ক্লাসে সবার আগে পৌঁছনো শিক্ষার্থীদের তালিকায় আমার নাম সবসময়ই থাকত। শেখার সেই আগ্রহ আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে এবং আজও আমি নিজেকে একজন শিক্ষার্থী বলেই মনে করি। আমি প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সংকট আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছে, প্রতিটি সাফল্য আমার দায়িত্বের পরিধি বাড়িয়েছে এবং প্রতিটি অর্জন আমাকে বৃহত্তর লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও সংকল্প জুগিয়েছে।