নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ চলো অভিযানে পুলিশের ছররা গুলি, পেরেক লাগানো লাঠি এবং মহিলা পড়ুয়াদের গোপনাঙ্গে আঘাতের অভিযোগের তদন্ত করতে উচ্চ স্তরের কমিটি গড়ল শীর্ষ আদালত। কমিটির শীর্ষে রাখা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডিকে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ কয়েকদিন ধরেই দিল্লিতে পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পুলিশের অত্যাচার নিয়ে মামলা শুনছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, আমরা সবদিক বিবেচনা করে এই উচ্চস্তরীয় কমিটি গড়েছি। কমিটির সবাই নিজের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ ও নিরপেক্ষতা দেখিয়েছেন এবং কমিটির বৈচিত্র্যও আমরা বিবেচনা করেছি। কমিটির শীর্ষে প্রাক্তন বিচারপতি সুভাষ রেড্ডির পাশাপাশি রাখা হয়েছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রবিশংকর ঝা, দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি শালিন্দর কৌর, প্রাক্তন সিবিআই ডিরেক্টর ঋষিকুমার শুক্লা ও মেঘালয়ের অবসৃত ডিজিপি এলআর বিশনয়কে।
কমিটি ধারাবাহিক পর্যালোচনা করবে এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ করবে। ২০ জুলাই পড়ুয়াদের ওপর ছররা গুলি, পেরেক লাগানো গুলি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া মহিলা পড়ুয়াদের গোপনাঙ্গে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। সেসবের তদন্ত করবে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত উচ্চস্তরীয় কমিটি।
সুপ্রিম কোর্টে দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে পড়ুয়ারা ব্যারিকেড ভাঙতেই সামান্য শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। ২০ জুলাই পড়ুয়াদের আক্রমণে ২৪০ পুলিশকর্মী আহত হয়েছে। উলটোদিকে পড়ুয়াদের আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় সরকার সরিয়ে দিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে।
শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে ২০ জুলাইয়ের সংসদ চলো অভিযানের সব সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন রেকর্ডিং, সব থানায় ডায়েরি, হাসপাতালের রিপোর্ট সংরক্ষণ করতে হবে। কমিটি চাইলে সেগুলি খতিয়ে দেখতে পারে। বিক্ষোভকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য পুলিশ যাতে প্রকাশ্যে না আনে সেবিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যেসব পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তই শেষ কথা নয়, বলেছে শীর্ষ আদালত। সদ্যগঠিত কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী নিরপেক্ষ কোনও কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে, নির্দেশ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্রর।