পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: বুধ ও বৃহস্পতিবার যাদবপুরে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সেই ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। আজ সেই কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকল। উত্তপ্ত যাদবপুর। এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অশান্তির রেশ পড়ে নন্দলাল বসুর তৈরি ফলকেও। ফলক ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে এবিভিপি-র বিরুদ্ধে। গত দুই দিন ধরে চলা এই অশান্তির ঘটনার তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হবে।
এই কমিটির কী কী কাজ হবে? কোন কোন বিষয়ে তদন্ত করা হবে? সেই সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ।
১৯ অগস্ট রাত ও ২০ অগস্টের ঘটনার জেরে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও নষ্ট করার যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত করবে এই কমিটি।
পাশাপাশি, যাদবপুর থানায় এই সংক্রান্ত অভিযোগ করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
১৯ অগস্ট রাতের ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে।
তদন্ত কমিটির হাতে সেই ফুটেজ তুলে দেওয়া হবে।
সিসিটিভি ও অন্যান্য তথ্যের মাধ্যমে বাইরের থেকে বেআইনিভাবে ক্যাম্পাসে ঢোকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্ত করবে এই কমিটি।
নিরাপত্তায় কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।
আজকের মধ্যেই তদন্ত কমিটির কাজের পরিধি চূড়ান্ত করা হবে।
এছাড়া, আগামী সোমবার বিকেল ৩টেয় সি আর -১-এ সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। মূল লক্ষ্য ক্যাম্পাসে শান্তি ও সম্প্রীতি ফেরানো।
বুধবার জেনারেল বডিং মিটিংয়ে ঝামেলার সূত্রপাত। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রদের জেনারেল বডি মিটিং চলছিল। সেখানে এবিভিপি ও ফেটসুর নিয়ন্ত্রণাধীন ডিএসএফের মধ্যে বচসা হয়। পরে সেই বচসায় জড়িয়ে পড়ে এসএফআই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাতেই এবিভিপির নিখিল দাসের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। আহত হন অনেকেই। এরপর রাতে অন্য একদল বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ।
বুধবারের ঘটনায় বৃহস্পতিবার এবিভিপি ও এসএফআই দুই পক্ষই প্রতিবাদ মিছিল বের করে। দুই পক্ষের মিছিলকে কেন্দ্র করেই বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।