নিউজ ডেস্ক: শিলংয়ে অসমের গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ জোড়াবাট, খানাপাড়ায়। মেঘালয়গামী আটকানো হয়েছে গুয়াহাটির জোড়াবাট ও খানাপাড়ায়। গুয়াহাটির ক্যাব চালকদের বিক্ষোভে টানা দুদিন গুয়াহাটি থেকে শিলংগামী গাড়ি বন্ধ। গুয়াহাটি থেকে শিলং যেতে হলে খানাপাড়া ও জোড়াবাট মূল প্রবেশবিন্দু। সেখানে অবরোধের ফলে মেঘালয়ে কোনও যাত্রী, সামগ্রী ঢুকতে পারছে না।
বুধবার শিলংয়ে খাসি ছাত্র সংস্থার বিক্ষোভে পোড়ানো হয়েছে অন্তত ৩১ গাড়ি, যার অধিকাংশই অসমের নম্বর প্লেটওয়ালা, আহত হয়েছে অসমের এক পরিবার। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবারেও প্রবল বিক্ষোভ খানাপাড়া-জোড়াবাটে। উলটোদিকে, মেঘালয়ের ট্যাক্সি চালক সংস্থা গুয়াহাটিগামী সব গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে গুয়াহাটি-শিলং যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। যদিও বিক্ষোভকারীরা বলেছে, অত্যাবশ্যক পরিষেবা চালু থাকবে, সেখানে কোনও বিরোধ নেই।
এক বিক্ষোভকারী চালক বলেন, এটা ধারাবাহিক সমস্যা। মেঘালয়ে আমাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের লাঞ্ছনা চলে। এর একটা স্থায়ী সমাধান চাই।
বৃহস্পতিবার মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ফোনে বার্তালাপ করেছেন। কিন্তু তাতে আমাদের আশঙ্কা মেটেনি। মেঘালয়ে আমাদের জীবন এবং গাড়ির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, বলেন এক চালক। এখন পর্যন্ত সরকারের তরফে আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেঘালয়ে আটকে পড়া অসমের পর্যটক ও মানুষের জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে অসম সরকার। দুটি নম্বর দেওয়া হয়েছে – ৯১৮১০১৪৮৮৮, ০৩৬১-২৩৮১৫১১। পুলিশের পক্ষে বলা হয়েছে, অসমের কোনও বাসিন্দা কিংবা গাড়ি যদি মেঘালয়ে আটকে থাকে তাহলে এই দুটি নম্বরে যোগাযোগ করলে অসম পুলিশ ব্যবস্থা করবে তাদের ফিরিয়ে আনার।
দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বার্তালাপের পর দুই রাজ্যের প্রশাসন আলোচনা চালাচ্ছে। দুই রাজ্যেই স্বাভাবিকতা, শান্তি ফেরাতে অসমের মন্ত্রী অতুল বরাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মেঘালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করতে।