মধ্যপ্রদেশে অপুষ্টিতে মৃত ২২ শিশু!

29

নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় অত্যন্ত অনগ্রসর বাইগা জনজাতির ২২ শিশুর মৃত্যুতে অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, হাম এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার চরম অভাবের কারণ উঠে এসেছে। বালাঘাট জেলার বিরসা এবং বাইহার ব্লকের প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন আদিবাসী গ্রাম থেকে এসব মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
১৫ মাস বয়সি মৃত শিশুর ওজন ছিল মাত্র সাড়ে তিন কিলো, শেওপুরের দেড় বছর বয়সি আদিবাসী শিশু রাধিকার ওজন ছিল মাত্র ২.৫ কেজি, যা তার বয়সী একটি শিশুর স্বাভাবিক ওজনের এক-চতুর্থাংশ। শিশুদের পরপর মৃত্যু এক নির্মম সত্যকে তুলে ধরেছে যে বড় বড় দাবি সত্ত্বেও, মধ্যপ্রদেশই ভারতে অপুষ্টির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। ২২ শিশুর মৃত্যুর পর মধ্যপ্রদেশ সরকার মৃতদের পরিবারকে মাত্র ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছে। শিশুর মূল্য ২০ হাজার! সরব বিরোধী দল কংগ্রেস।
সরকারি নথিপত্র বলছে যে মধ্যপ্রদেশে ১০ লক্ষেরও বেশি শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে ১.৩৬ লক্ষ শিশু মারাত্মকভাবে শীর্ণকায়। তুলনামূলকভাবে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে মারাত্মক ও মাঝারি অপুষ্টির জাতীয় হার ছিল ৫.৪০%, যেখানে মধ্যপ্রদেশে এই হার ছিল বিস্ময়করভাবে ৭.৭৯%।
রক্তাল্পতার কারণে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ৫৭% নারী রক্তাল্পতায় ভুগছেন, যা পরবর্তী প্রজন্মকে জন্মের আগেই দুর্বল করে দিচ্ছে। কেন্দ্রের নিউট্রিশন ট্র্যাকার অ্যাপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে মধ্যপ্রদেশের ৫৫টি জেলার মধ্যে ৪৫টিই ‘রেড জোন’-এ ছিল, যার অর্থ ২০ শতাংশেরও বেশি শিশু তাদের বয়সের তুলনায় কম ওজনের।
কাগজে-কলমে, এনআরসি-তে প্রতিটি শিশুর জন্য ৯৮০ টাকা খরচ করা হয়। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে, গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুদের জন্য প্রতিদিন ১২ টাকা বরাদ্দ করা হয়, যেখানে স্বাভাবিক শিশুরা পায় ৮ টাকা। মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস বিধায়ক বিক্রান্ত ভুরিয়া সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, দুটো কলার দামও ১২ টাকার বেশি। এক লিটার দুধের দাম ৭০ টাকা। ৮ টাকায় কী পুষ্টি কেনা যায়?
কংগ্রেসের অভিযোগ, বাজেট বৃদ্ধি এবং বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির খুব সামান্যই পরিবর্তন হয়েছে। দশ লক্ষেরও বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশু, শিবপুরী, শেওপুর ও ভিন্দে মর্মান্তিক মৃত্যু এবং পুষ্টি প্রকল্পগুলিচে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে এই সংকট এখন আর কেবল দারিদ্র্যের নয়, এটি শাসনতান্ত্রিক ব্যর্থতার সংকট।