পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিস নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না । এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ। বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী আজ ভোররাতে ক্যামাক স্ট্রীটের অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। এমনকী দপ্তরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি তৃণমূলের। ইতিমধ্যে এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনায় শাসকদল বিজেপির দিকে অভিযোগ। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, হামলাকারীরা অফিসের কর্মীদের মারধর করে, তাঁদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং অফিসের আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। তাঁর দাবি, এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার, টেলিভিশন-সহ একাধিক সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর অফিসের ক্ষয়ক্ষতির একটি ভিডিওও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি।
ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তিনি শহরে না থাকার বিষয়টি জানার পরই হামলাকারীরা ভোররাতে দলীয় কার্যালয়ে ঢোকে। তাঁর অভিযোগ, কলকাতার মতো শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে ভোর সাড়ে ৪টেয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়নি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন ডায়মন্ড হারবারে সংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দলের কর্মী ও আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বারবার ফোন এবং ই-মেলের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হলেও প্রায় দু’ঘণ্টা কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটি কোনওভাবেই গণতন্ত্রের ছবি নয়, বরং রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও ভয় দেখানোর চেষ্টা। তিনি দাবি করেন, হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। পাশাপাশি কারা হামলার পিছনে রয়েছে, কার নির্দেশে তা সংগঠিত হয়েছে এবং পুলিশকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—তা তদন্ত করে দেখারও দাবি জানান তিনি।
রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনার পর তাঁরা কোনও পদক্ষেপ করবেন কি না, নাকি সবকিছু দেখেও নীরব থাকবেন তা জানতে চান তিনি। একইসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা।