১৮ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ প্রাক্তন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

51

নিউজ ডেস্ক: সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেকার যুবদের কাছ থেকে প্রায় ১৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরমা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও তাঁর বোনের বিরুদ্ধে।
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনুপমা দেবীর প্রাক্তন ছাত্র ধ্রুবজ্যোতি হালৈ এই অভিযোগ করেছেন পুলিশের কাছে। ধ্রুবজ্যোতির অভিযোগ, অনুপমা দেবী, তাঁর বোন দীপিকা দেবী এবং আরও তিনজন মিলে বরমা, পাতাসারকুচি, নলবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৭০-৮০ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলের প্রধান কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে প্রমোদ বড়োর কার্যকালে, অর্থাৎ ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন দফতরে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।
অনুপমা দেবীর ছেলের সঙ্গে বিটিসির প্রাক্তন প্রধান প্রমোদ বড়োর শ্যালিকার বিয়ে হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য এই পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি কাজে লাগানো হয়েছিল, এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছিল যে অভিযুক্তদের প্রভাবশালী মহলে যোগাযোগ রয়েছে।
হালৈ আরও অভিযোগ করেছেন যে, চাকরি-প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত আর্থিক লেনদেন স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার দিশপুর শাখায় তাঁর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, অনুপমা দেবীর সংগৃহীত টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা করা হত। ধ্রুবজ্যোতির দাবি যে, এর বিনিময়ে তিনি ওই টাকার একটি অংশ পেয়েছিলেন।
অভিযোগকারীর দাবি, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দিতে ব্যর্থ হন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পরিস্থিতি যখন জটিল হয়ে ওঠে, তখন অনুপমা দেবী তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছিলেন।
ধ্রুবজ্যোতি হালৈ দিশপুর থানায় এফআইআর করেছেন, পুলেন চন্দ্র গোস্বামী, তাঁর স্ত্রী দীপিকা দেবী, অনুপমা দেবী, চক্রধর বর্মন এবং বনজিৎ রায়ের বিরুদ্ধে।