২০২৫-এ অসমে একটি গন্ডারও হত্যা হয়নি,অসমের মুকুটে নতুন পালক

23

নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালে অসমে একটিও গন্ডার হত্যার খবর নেই। রিপোর্ট ইন্টারন্যাশনাল রাইনো ফাউন্ডেশন-এর। স্টেট অফ দ্য রাইনো ২০২৬ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের এক-শৃঙ্গ গন্ডার প্রজাতির প্রায় ৮০ শতাংশের আবাসস্থল অসমে। ২০২৫ সালে অসমে কোনও গন্ডার শিকারের ঘটনা ঘটেনি, যা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক।
১৯৭০-এর দশকের পর থেকে এটিই দ্বিতীয়বার যখন অসমে কোনও গন্ডার শিকারের ঘটনা নেই। এর আগে ২০২২ সালেও এই মাইলফলক অর্জন করেছিল অসম।
অসমে প্রায় ৩,২৬০ এক-শৃঙ্গ গন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ২,৬০০টিরও বেশি গন্ডার, যা বিশ্বের মোট এক-শৃঙ্গ গন্ডারের ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, মানস জাতীয় উদ্যানে রয়েছে প্রায় ৪০-৫০টি গন্ডার।
অসমে সংঘবদ্ধভাবে গন্ডার শিকারের অতীতের প্রেক্ষাপটে এই সাম্প্রতিক সাফল্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এমনও বছর গেছে যখন অসমে এক বছরেই প্রায় ৩০টি গন্ডারকে হত্যা করা হয়েছিল।
পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্যের উন্নত সংগ্রহ ব্যবস্থা, সমন্বিত আইনি পদক্ষেপ, উন্নত নজরদারি এবং বন বিভাগের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতা।
আইআরএফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০২৫ সালে অসম ও নেপালে কোনও এক-শৃঙ্গ গন্ডার শিকারের কোনো ঘটনা ঘটেনি। নেপাল ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ বার এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অন্যদিকে অসম ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো গন্ডার শিকারের কোনও ঘটনা না ঘটার রেকর্ড গড়েছিল।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার-এর সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে গন্ডারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,০৭৫-এ; ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪,০১৪।
অসমের গন্ডার সংরক্ষণ প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কাজিরঙা। ২,৬০০-এরও বেশি গন্ডার নিয়ে এই উদ্যান বিশ্বের বৃহত্তম একক গন্ডার আবাসস্থল। সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই সাফল্য গন্ডারকে অসমের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা প্রচেষ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে এবং রাজ্যের পর্যটন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত করেছে।
২২ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব গন্ডার দিবস’কে সামনে রেখে আইএফআর প্রতিবেদনের প্রকাশ এবং অসমের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন, উভয়ই অসমে গন্ডার সংরক্ষণের বিষয়ে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা ও অঙ্গীকারের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।