অসমের কারাগারের শোচনীয় অবস্থা! স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

35

নিউজ ডেস্ক: অসমের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের স্বাস্থ্য ও কারা-ব্যবস্থাপনার শোচনীয় অবস্থা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ গুয়াহাটি হাইকোর্টের। বন্দিদের এইচআইভি সংক্রমণ, চরম ভিড়, অপর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, আত্মহত্যা এবং সাজা মকুবের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে সরব আদালত।
গুয়াহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আশুতোষ কুমার এবং বিচারপতি অরুণ দেব চৌধুরীর বেঞ্চ অসম সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে এবিষয়ে হলফনামা পেশের। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৮ অক্টোবর।
গুয়াহাটি কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের অবস্থা, বিশেষ করে এইচআইভি-পজিটিভ বন্দি শনাক্ত হওয়ার বিষয়ে আদালত এই স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আদালতে পেশ করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুয়াহাটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ মহিলা সহ মোট ৩৮ বন্দির এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।
অসম আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সদস্য-সচিবের প্রতিবেদনও আদালত বিবেচনা করেছে; ওই প্রতিবেদনে অসমের বিভিন্ন কারাগারে অতিরিক্ত ভিড়ের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনও কোনও কারাগারে একটি ছোট ঘরে ৪২ থেকে ৪৫ জন পর্যন্ত বন্দিকে রাখা হয়েছে, যেখানে মাত্র একটি শৌচাগার রয়েছে। নলবাড়ি, ধুবড়ি, হাইলাকান্দি এবং শ্রীভূমির জেলা কারাগারে এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিবসাগর ও ধুবড়ি কারাগারে অন্য রাজ্যের বন্দিদের যোগাযোগের সুবিধা নিয়েও উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। কোনও কোনও বন্দি অভিযোগ করেছেন যে, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাঁদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং যোগাযোগের কোনও বিকল্প ব্যবস্থাও প্রদান করা হয়নি।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
অসমের কারাগারগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতি নিয়ে বেঞ্চ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে কারাগারে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অপর্যাপ্ত; এ ছাড়া বন্দিরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের অনিয়মিত পরিদর্শনের বিষয়েও অভিযোগ জানিয়েছেন।
অসমের কারাগারে আত্মহত্যা ও অন্যান্য অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টিও আদালতের নজরে এসেছে। নলবাড়ি জেলা কারাগারে তিন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে এবং ওদালগুড়ি কারাগার থেকেও অনুরূপ ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
গত পাঁচ বছরে অসমের বিভিন্ন কারাগারে অস্বাভাবিক মৃত্যু ও আত্মহত্যার ২৭টি ঘটনা ঘটেছে।
গুয়াহাটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ১,৬৭২ জন বন্দি রয়েছেন।
২ আগস্ট কামরূপ (মেট্রো)-এর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত একটি পৃথক পরিদর্শনে গুয়াহাটি কেন্দ্রীয় কারাগারের অত্যধিক ভিড়ের বিষয়টি উঠে এসেছে।
এই কারাগারে ১,৪০০ বন্দি রাখার ক্ষমতা থাকলেও সেখানে আছে ১,৬৭২ বন্দি। এর মধ্যে ৭৭ মহিলাও রয়েছেন।
এর মধ্যে ৩১ জন এইচআইভি-পজিটিভ বন্দি, যাদের মধ্যে দুজন মহিলা রয়েছেন, একজন বন্দি যক্ষ্মা আক্রান্ত এবং ১৯ বন্দি মানসিক রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ছাড়া রয়েছে বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা সাজা মকুবের আবেদন।
আজীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের সাজা মকুবের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব নিয়েও হাইকোর্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
কোনো কোনো বন্দি অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের আবেদন রেমিশন বোর্ডের কাছে দুই থেকে তিন বছর ধরে ঝুলে আছে।
২০২৫ সালে সাজা মকুবের ৩২টি প্রস্তাব ফেরত পাঠানো হয়েছিল এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সংক্রান্ত ৫৮টি মামলার মধ্যে মাত্র একটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
আদালত সরকারের কাছে বিস্তারিত জবাব চেয়েছে।
২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে আসামের ৩১টি কারাগারে ২২৬ জন বন্দির এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া এসব ঘটনার প্রায় ৯৫ শতাংশই ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত, কারাগারের ভেতরে সংক্রমণের কারণে নয়।