নিউজ ডেস্ক: বিহারের জামুইয়ে সন্ধে সাতটায় দশম শ্রেণির ছাত্রীকে নির্যাতন। ঘটনায় তীব্র সমালোচনা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর। শনিবার সন্ধ্যায় বিহারের জামুই শহরের একটি স্থানীয় স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্র ও এক ছাত্রী কোচিং ক্লাস থেকে ফেরার পথে শ্লীলতাহানি ও হেনস্থার শিকার হয়েছে। একদল দুষ্কৃতী তাদের স্কুটার থামিয়ে গালিগালাজ করে ও জোর করে নামিয়ে দেয়। এরপর কিশোর-কিশোরী পালানোর চেষ্টা করলে দুষ্কৃতীরা তাদের ধাওয়া করে।
ওই কিশোর-কিশোরী দুজনে শহরের জনপ্রিয় পাহাড়ি এলাকা মাডওয়ায় ঘুরতে গিয়েছিল। ফেরার পথে তাদের স্কুটার থামাতে বাধ্য করে দুষ্কৃতীরা এবং তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে একজন পুরো ঘটনাটি ভিডিয়ো করে রাখে, যা পরে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, হামলাকারীদের একজন ওই কিশোরের শার্টের কলার ধরে তাকে নিজের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করছে। মেয়েটির সহায়তায় ছেলেটি নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয় এবং এরপর তারা দুজনে পালানোর চেষ্টা করে। তখন হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া করে।
এক পর্যায়ে, আরেকজন মেয়েটির গলা ও শরীরের নীচের অংশ ধরে তাকে মাটি থেকে শূন্যে তুলে ফেলে। কিশোরটি তৎক্ষণাৎ তার দিকে ছুটে গিয়ে বাধা দেয় এবং ওই ব্যক্তিকে মেয়েটিকে নিয়ে যেতে নিরস্ত করে। ধস্তাধস্তির সময় হামলাকারীদের একজন মেয়েটির বুকে হাত দিয়ে ধাক্কাও দেয়।
ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময়ও তাদের ওপর হয়রানি চলতে থাকে। স্কুটারে করে চলে যাওয়ার সময় মেয়েটি পেছনে বসেছিল, তখন হামলাকারীদের একজনকে মেয়েটির হাত ধরে টানতে দেখা যায়। দলের আরেক সদস্য তখনো তার ফোনে পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করছিল।
দলটি ওই দুই নাবালককে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করে। এক পর্যায়ে মেয়েটিকে অনুনয়-বিনয় করে বলতে শোনা যায়, দয়া করে আমাদের যেতে দিন, আমরা কথা দিচ্ছি যে আর কখনো এখানে ফিরে আসব না। শেষপর্যন্ত দুষ্কৃতীরা তাদের চলে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার রাহুল গান্ধী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন যে, বিহারের জামুইয়ের ভিডিয়োটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দশম শ্রেণির দুই পড়ুয়াকে রাস্তায় আটকে হেনস্থা, অপমান ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। এক কিশোরী হাতজোড় করে ছাড়া পাওয়ার জন্য অনুনয়-বিনয় করছিল, অথচ দুষ্কৃতীরা তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করছিল এবং টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল।
রাহুল লিখেছেন, এধরনের আচরণ করার অধিকার এদের কে দিল? এটা কোনও সংস্কৃতি নয়, এটা পিতৃতন্ত্র। এটা এমন এক মানসিকতা যা মনে করে যে কোনও পুরুষই কোনও মেয়ের শরীর, তার চলাফেরা বা তার পছন্দের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফলাতে পারে। ওই ভিডিয়োতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পকসো আইনে বিচার করতে হবে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনাকে বিহারের জঙ্গলরাজ-এর নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করে কংগ্রেসের মুখপাত্র শামা মহাম্মদ বলেন, তথাকথিত নীতি পুলিশির নামে ওই যুগলকে হেনস্থা করা হয় এবং মেয়েটিকে শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়। ভিডিয়োতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, ওই ব্যক্তিরা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করেছিল। বিজেপি এবং সপ্তম শ্রেণি উত্তীর্ণ সম্রাট চৌধুরীর জঙ্গলরাজের প্রকৃত চিত্র এটাই।
Prev Post