নিউজ ডেস্ক: নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনের আগে সোমবার কংগ্রেস নেতৃত্বের কনভয়ে আক্রমণের ঘটনায় কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকেই দায়ী করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনের প্রচার চলাকালীন সামাগুড়িতে যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, তা ছিল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবদমান গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষের ফল। তিনি রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্বকে তাদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানান।
২১ সেপ্টেম্বর সামাগুরিতে কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে হামলার ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে হিমন্ত এই মন্তব্য করেন। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি গৌরব গগৈ এবং ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতা সামাগুড়িতে নির্বাচনী সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তখনই তাঁদের গাড়ির দিকে পাথর ছোড়া হয়। কংগ্রেসের দাবি, এই ঘটনার পেছনে বিজেপি সমর্থকরা জড়িত ছিল। তবে এই সংঘাতের কারণ নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
কংগ্রেসের অভিযোগের জবাবে হিমন্ত বলেছেন, ঘটনাটি সামাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ঘটেছে, যার প্রতিনিধিত্ব করছেন ধুবড়ির কংগ্রেস সাংসদ রকিবুল হোসেনের ছেলে তানজিল হোসেন। হিমন্ত বলেছেন, মূলত এটা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবদমান গোষ্ঠীগুলোর একটি সংঘাত।

হিমন্ত সামাগুড়ি বিধানসভার ইতিহাসের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, গত বিধানসভা নির্বাচনে সামাগুড়িতে কংগ্রেস ১,৪৫,২১২ ভোট পেয়েছিল, যেখানে বিজেপি পেয়েছিল ৩৬,৯০২ ভোট। এ ছাড়া তিনি সামাগুড়িকে মূলত সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত নির্বাচনী এলাকা হিসেবেও বর্ণনা করেন।
হিমন্ত বলেছেন, এই ঘটনার জন্য অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ী না করে কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বের উচিত দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের দায় স্বীকার করা।
হিমন্তর কথায়, সহজ পথ হিসেবে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা না করে কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের দায় নেওয়া এবং দলের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।
৬ অক্টোবর নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচন। কংগ্রেস এই আসনে বটদ্রবার প্রাক্তন বিধায়ক শিবমণি বরাকে প্রার্থী করেছে এবং গৌরব গগৈ ও রকিবুল হোসেনের মতো দলের নেতারা তাঁর হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।
কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, গাড়ির বহরে পাথর ছোড়ার আগে বিজেপি সমর্থকরা কালো পতাকা প্রদর্শন ও স্লোগান দিয়েছিল। ঘটনার পর পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
কংগ্রেসের অভিযোগ সম্পর্কে হিমন্ত বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক রেষারেষিকে কখনোই রাজপথে গড়াতে দেওয়া উচিত নয়, যাতে সমাজের শান্তি ও সম্প্রীতি বিঘ্নিত হয়।