দিন‌ পেরিয়ে রাত, ভাঙড়ে উত্তেজনা অব্যাহত , আজও কলেজের সামনে পুলিশ পিকেট, উত্তেজনার ঘটনায় দুই পৃথক মামলায় গ্রেফতার চার

17

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:শুরু হয়েছিল সোমবার বিকেলে। রাত বাড়লেও বদলায়নি ছবি। আজও থমথমে ভাঙর। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিনের পর রাতেও নামাতে হয়েছে র‍্যাফ। আজও সকাল থেকে মোতায়ন বিশাল পুলিশ বাহিনী। ভাঙড় কলেজে গোলমালের ঘটনায় চার জন গ্রেফতার । ধৃতদের নাম শাহরুখ আখতার আলি মোল্লা, আসলাম হাবিব, রবিউল মিস্ত্রি এবং রবিউল জামান শেখ। দু’টি পৃথক মামলায় তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

বিক্ষোভের সূত্রপাত, ভাঙড় কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর পরিবর্তে স্থানীয় বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি করার দাবিতে বিকাশ ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান আইএসএফের ছাত্র সংগঠন।

সোমবার ভাঙড় কলেজে সায়ন্তন বসু যেতেই বিক্ষোভ শুরু হয়, তাঁকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগ এসএফআই-আইএসএফের বিরুদ্ধে। রাস্তাতে অপেক্ষা করতে হয় সায়ন্তন বসুকে। পালটা স্লোগান দিতে শুরু করে এবিভিপিও। হাতাহাতি, “গো ব্যাক” স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলেজ চত্বর।

দুই পক্ষের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ভাঙড় থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করা হয়। কলেজে প্রবেশ করেন সায়ন্তন বসু।

এরপর সন্ধে গড়াতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করে কলেজ চত্বর। শুধু তাই নয়, ভাঙড় থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান আইএসএফ সমর্থিত ছাত্ররা। রাতেও দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ করতে এলাকায় নামানো হয় রাফ।

ভাঙড় থানার স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন রবিউল মিস্ত্রি এবং রবিউল জামান। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ জমায়েত, বেআইনি ভাবে কলেজে প্রবেশ, পরিচালন সমিতির সভাপতিকে বাধা দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

পাশাপাশি এবিভিপি সমর্থক পড়ুয়াদের একাংশের তরফেও ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেফতার হয়েছেন শাহরুখ এবং আসলাম।

ধৃতদের চার জনকেই মঙ্গলবার হাজির করানো হবে বারুইপুর আদালতে।