নগাঁওয়ে সংঘর্ষে অসমে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন কংগ্রেসের

21

নিউজ ডেস্ক: নগাঁও জেলার সামাগুড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী শিবমণি বরার ওপর হামলায় পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন কংগ্রেসের। সোমবার ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল, গৌরব গগৈ, শিবমণি বরো, নগাঁওয়ের সাংসদ রকিবুল হোসেন, অসম বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ওয়াজেদ আলির গাড়িতে আক্রমণ হয়েছে সামাগুড়িতে।
এখানেই শেষ নয়, মঙ্গলবার লাহরিঘাটের গরৈমারিতে কংগ্রেস বিধায়ক আসিফ নজরের ওপর হামলা হয়েছে। যার প্রতিবাদে সেখানে নির্বাচনী জনসভা বাতিল করেছেন অসমের কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ।
যদিও সামাগুড়ির সংঘর্ষে কংগ্রেসের অভিযোগের উত্তরে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, অন্য কারও ওপরে দোষারোপ করার আগে কংগ্রেস নিজের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ঠিক করুক। সামাগুড়ির সংঘর্ষ কংগ্রেসের কোষ্ঠী কোন্দলের ফল।
সামাগুড়ির বরমা বাজার এলাকায় কংগ্রেসের নেতাদের কনভায় নির্বাচনী জনসভার উদ্দেশে লোরিমুখের দিকে যাচ্ছিল। কনভয়ে ছিলেন অসম কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈ, ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল, ধুবড়ির সাংসদ রকিবুল হোসেন, শিবমণি বরা এবং দলের অন্যান্য নেতা।
কংগ্রেস অভিযোগ করেছে যে, তাদের কনভয় লক্ষ করে পাথর ছোড়া হয়, যার ফলে কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনার পেছনে বিজেপি কর্মীরা জড়িত ছিল।
অসম বিধানসভার বিরোধী দলের উপনেতা জয়প্রকাশ দাস নগাঁওয়ে সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, অসমে আদৌ কি কোনও স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও পুলিশ প্রশাসন আছে? এই প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন যে, নিরাপত্তা পাওয়ার কথা থাকা সত্ত্বেও শিবমণি বরা ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। জয়প্রকাশ বলেন, নগাঁওর পুলিশ সুপার এবং ডিজিপি এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন কি না।
জয়প্রকাশের প্রশ্ন, ওই এলাকার মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের কনভয় যাওয়ার আগে কেন কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি প্রশ্ন করেন, সামাগুড়িতে আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এবার কেন কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হল না?
নির্বাচনী প্রচারের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই কংগ্রেস নেতা। জয়প্রকাশের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন কোথায়? একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপরও পুলিশ হামলা চালিয়েছে।
কংগ্রেস নেতারা পৃথকভাবে অভিযোগ করেছেন যে, ওই এলাকায় সংঘাতের আশঙ্কার বিষয়ে পুলিশকে আগেই জানানো হয়েছিল। গৌরব গগৈও অভিযোগ করেন যে, কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও কংগ্রেসের গাড়িবহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
আগামী ৬ অক্টোবর নগাঁও লোকসভা আসনের উপনির্বাচন এবং ৯ অক্টোবর ভোটগণনা। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনের সময়ও সামাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গিয়েছিল।