নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা হবে। এ ছাড়া সিজেপির দাবি, আসন্ন সব নির্বাচন আপাতত স্থগিত রাখা হোক এবং এসআইআর-কে ২০২৫ সালের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হোক।
নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য নিয়ে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনের পর, বৃহস্পতিবার ককরোচ জনতা পার্টি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তিনি পদত্যাগ না করলে সারা ভারত জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করা হবে। এ ছাড়া, আসন্ন সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন স্থগিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ ডিপকে জানিয়েছেন যে, তাঁদের সংগঠন নয়াদিল্লি এবং সারা দেশ জুড়ে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।
সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন— জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁকে নির্দেশ প্রদানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ এবং আসন্ন সব নির্বাচন স্থগিত রাখা। পাশাপাশি সিজেপির দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা বহাল করা হোক, এসআইআর-সংক্রান্ত নথিপত্র সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটির তত্ত্বাবধানে রাখা হোক এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন বাতিল করা হোক।
দ্য হিন্দু-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনজীবী ব্রজেশ সিং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানির সম্মতি চেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশনার লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছিল যে নির্বাচন কমিশনকে একটি বহু-সদস্যবিশিষ্ট সংস্থা হিসেবে কাজ করতে হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হতে হবে ‘প্রাইমাস ইন্টার পারেস’ বা ‘সমকক্ষদের মধ্যে প্রধান’।
সিজেপির অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির ভোট পাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীপকে বলেন, এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তার তুঙ্গ সময়েও বিজেপি এত ভোট পায়নি। তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীও যা অর্জন করতে পারেননি, বিজেপিকে সেই ভোট পাইয়ে দিতে জ্ঞানেশ কুমার কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ বলেন, জ্ঞানেশ কুমার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করছেন। আমার মনে হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই কাজ করেন।
সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমানে ১৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচন কমিশন যে এসআইআর করছে সেটা শুধু বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন এসআইআর-কে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলো ঘোষণা করেছে যে, জনকল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধাকে এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়বে, তারা আর এই সুবিধাগুলো পাবেন না, বলেন আশুতোষ রাঙ্কা