জ্ঞানেশ ইস্যু কাছে আনলো বিরোধীদের, মমতাকে রাহুলের ফোন, ৩০ সেপ্টেম্বর বৈঠক বিরোধীদের

20

নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমারকে অপসারণের দাবিতে এক হচ্ছে বিরোধী সব দল। বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে কথা বলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আপাতত ঠিক হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর জ্ঞানেশ অপসারণের প্রস্তাবের বিষয়ে কৌশল চূড়ান্ত করতে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লক ৩০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ‘কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়া’য় বৈঠক করবে।এই বৈঠকে প্রস্তাবিত অপসারণ প্রস্তাবের পক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের পরই জ্ঞানেশ অপসারণের দাবি তীব্র হয়ে উঠেছে। ২৩ সেপ্টেম্বরের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, কমিশনের অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী ১০ মাসের মধ্যে ১৪ বার তাঁদের আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন।
কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো এখন জ্ঞানেশকুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আরও জোরালো করার পাশাপাশি দেশজুড়ে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলোচনা করার পরই এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই ঘটনাপ্রবাহের ফলে পশ্চিমবঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে একই অবস্থানে চলে এসেছে।
এই বৈঠকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র প্রধান উদ্ধব ঠাকরের পাশাপাশি জোটের অন্যান্য শরিক দলের নেতাদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এর আগে গত ৮ জুন কনস্টিটিউশন ক্লাবে এই জোটের বৈঠক হয়েছিল। মে মাসে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগাম (ডিএমকে) এই জোট থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে; কারণ কংগ্রেস তখন বিজয়ের দল টিভিকে (TVK)-র দিকে ঝুঁকেছিল, যারা সরকার গঠন করেছিল। ডিএমকে এই বৈঠকে যোগ দেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বৈঠকে তিনটি বিষয় আলোচনার আলোচ্যসূচি হিসেবে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমটি হল সংসদে অপসারণ প্রস্তাব সংক্রান্ত কৌশল, যার মধ্যে স্বাক্ষর সংগ্রহের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় হল জ্ঞানেশকুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো করা এবং পরবর্তী আন্দোলনের পরিকল্পনা করা। তৃতীয় হলো দেশজুড়ে আন্দোলনের একটি রূপরেখা তৈরি করা, বিশেষ করে পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যে, যেখানে নির্বাচন আসন্ন।
এর আগে, এই বিষয়ে দলের কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সিপিআই(এম), সিপিআই এবং সিপিআই(এমএল)-লিবারেশন জ্ঞানেশকুমারকে অপসারণ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন যে, ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠক শুধু নির্দিষ্ট জোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, আমরা আহ্বান জানাচ্ছি যেন এই বৈঠকটি শুধুমাত্র ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং এতে সব বিরোধী দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, সকলকেই অন্তর্ভুক্ত করা হোক। কারণ, আমাদের গণতন্ত্র এবং ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা এর আগে কখনো এত বড় সংকটের মুখোমুখি হয়নি।
ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকে সারা দেশ জুড়ে একটাই প্রশ্ন উঠেছে: জ্ঞানেশকুমার কবে পদত্যাগ করছেন? এই তথ্য সামনে আসার পর, জ্ঞানেশকুমার যতদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে বহাল থাকবেন, ততদিন নির্বাচন কমিশনের আর কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই থাকবে না।