কলঙ্ক মুছতে শনিবার নির্বাচন সদনে জ্ঞানেশের বৈঠক, ছিলেন ২ কমিশনার সান্ধু, জোশীও
নিউজ ডেস্ক: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর বৈঠক হয়েছে নির্বাচন সদনে। বৈঠক শেষে তাঁরা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় কর্মসূচি বা এসআইআর, ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তকরণ এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
তিন নির্বাচন কমিশনারের যৌথ ছবিসহ প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাবিনেট সচিবের কাছে সান্ধু ও জোশীর পাঠানো চিঠির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। এসআইআর প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বিষয়ে সান্ধু ও জোশী একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এই খবরের পর নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠক করেছে।
কমিশনের বিবৃতিতে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে: নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তকরণ, চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি এবং ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর ২৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিভিন্ন উদ্বেগ, যে প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের সূত্রপাত করেছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ক্যাবিনেট সেক্রেটারির কাছে পাঠানো চিঠি কমিশন বা আইটি বিভাগের কোনও নীতিগত বিষয় সংক্রান্ত ছিল না, বরং এটি ছিল নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে কর্মরত একজন আধিকারিকের কাজ সংক্রান্ত। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক কাজের পুনর্বণ্টন সংক্রান্ত যে নির্দেশ জারি করেছিল, তা বাস্তবে কার্যকর করা হয়নি এবং আইটি বিভাগের ওপর ডিইসি-র তদারকির বিষয়টিও কখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।
গোয়ার সিইও সংশ্লিষ্ট বিএলও-দের নির্দেশ দিয়েছেন যে, যেসব ভোটারকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। তালিকাভুক্তির জন্য ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৮১ জন ইতিমধ্যেই ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করেছেন।
বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ-সহ ২০ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এসআইআর চলাকালীন বা তার পরে যেসব ব্যক্তির নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা এবং তরুণ বা প্রথমবার ভোটদানকারী ভোটার সহ যে কেউ অবিরাম আপডেশেন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইআরও-র কাছে আবেদন করতে পারেন। সব রাজ্যের সিইওকে এই প্রক্রিয়া সহজতর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিইও, ডিইও এবং ইআরও-রা এই ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অবিলম্বে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করবে।
দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, দাবি ও আপত্তি দাখিলের সময়সীমা ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে কমিশন। পাশাপাশি, নোটিস এবং দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির সময়সীমা ৩০ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া, মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অনুরোধ অনুযায়ী, সে রাজ্যেও দাবি ও আপত্তি দাখিলের সময়সীমা ১২ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং নোটিশ ও দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির সময়সীমা ১০ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।