নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের “মোদী কা বাপ…” মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শালীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতারা খাড়গের মন্তব্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন এবং শাসক দলের অতীতের ব্যক্তিগত আক্রমণের নজির তুলে ধরে পাল্টা জবাব দিয়েছেন।
পাটনায় বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এই বিতর্কের সূত্রপাত। খাড়গে এসআইআর প্রক্রিয়ার অনিয়ম নিয়ে কথা বলছিলেন এবং বলেন যে, যারা এর জন্য দায়ী, কংগ্রেস তাদের জেলে পাঠাবে। এসময় শ্রোতাদের মধ্য থেকে একজন মন্তব্য করেন যে, যতক্ষণ না কোনও বিদ্রোহ ঘটছে, ততক্ষণ প্রধানমন্ত্রী মোদী কোথাও যাচ্ছেন না। এর জবাবে খাড়গে বলেন, মোদী কা বাপ ভি যায়েগা।
এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রয়াত পিতাকে নিয়ে মন্তব্য করে খাড়গে রাজনৈতিক শালীনতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস বারবার প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি মোদীকে ‘মওত কা সওদাগর’ এবং তাঁর গরিবিকে ‘চায়ে ওয়ালা’ বলেছিল কংগ্রেস, উল্লেখ করেন।
শাহ কংগ্রেসের এই ক্রমবর্ধমান অশালীন রাজনৈতিক আচরণের জন্য রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, বারবার নির্বাচনী পরাজয়ের ফলে দলটি এখন কোনো গঠনমূলক নীতি বা ইস্যু হারিয়ে ফেলেছে এবং কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন খাড়গের মন্তব্যকে কংগ্রেসের ‘মতাদর্শগত দেউলিয়াপনা’র প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতার ক্ষেত্রেও শালীনতা বজায় রাখা জরুরি।
সমাজমাধ্যমে বিজেপি লিখেছে, যে ধরনের ভাষা একসময় গুন্ডা-বদমাশদের মুখে শোনা যেত, এখন খোদ কংগ্রেস সভাপতি সেই ভাষাই ব্যবহার করছেন।
নীতিন নবীন বলেন, যখন বিরোধীদের কাছে উন্নয়ন, সরকারি নীতি বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করার মতো কোনও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থাকে না, তখনই তারা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নেয়।
এরই মধ্যে, উত্তরাখণ্ডে ৮ আগস্ট, ২০২৬-এ কংগ্রেসের জনসভার পর আরএসএস ও বিজেপির পক্ষ থেকে ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানের বিষয়টি সামনে এনে বিজেপিকে আরও কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছেন খাড়গে। সমাজমাধ্যমে তিনি বলেছেন, এই ঘটনার জন্য বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডা সংসদে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু এরপর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী সংবিধান নিয়ে কথা বললেও যারা অস্পৃশ্যতা চর্চা করে তাদেরই তিনি রক্ষা করছেন, অভিযোগ তুলে খাড়গে বিহারের জনগণের কাছে এই প্রথা নির্মূল করার আহ্বান জানান।
এবিষয়ে কংগ্রেস সাংসদ পবন খেরা বলেছেন, বিজেপি এবং আরএসএস দুবার খাড়গেকে অপমান করেছে। তিনি উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেসের একটি বৈঠকের পর আয়োজিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান এবং পাটনায় রবিবারের অনুষ্ঠানে বিঘ্নের উল্লেখ করেন।
খেরা জানান, বিজেপির এক কর্মী অভদ্রভাবে খাড়গের বক্তব্যে বাধা দিয়ে মন্তব্য করেন যে, মোদী পদত্যাগ করবেন না। খেরা যুক্তি দেন যে, খাড়গে যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন, তা মোদীর পরিবারের প্রতি কোনও অপমান নয়, বরং এটা সংঘ এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতসহ তাদের আদর্শগত নেতৃত্বের প্রতি ইঙ্গিত।
কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি যুক্তি দেন যে, রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরকে বাছাইমূলকভাবে বিচার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণকে স্বাভাবিক করে তুলেছেন, তারা হঠাৎ করে নৈতিক ক্ষোভ প্রকাশের দাবি করতে পারেন না।
‘৫০ কোটির গার্লফ্রেন্ড’, ‘জার্সি গাই’ এবং ‘সূর্পণখা’-র মতো মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সিঙ্ঘভি বলেন, সবার ক্ষেত্রেই একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, কেবল নিজের সুবিধামতো ক্ষোভ প্রকাশ করাটা জনপরিসরে কোনও গ্রহণযোগ্য যুক্তি হতে পারে না।