হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে হড়পা বান ভুটানে,সতর্কতা অসম-বাংলার ৫ জেলায়

26

নিউজ ডেস্ক: ভুটানে হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদের বাঁধ ভেঙে একটি সৌরচালিত সেচ প্রকল্প আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জেরে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের কিছু অংশের জন্য বিশেষ বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সঙ্কোষ নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
ভুটানে হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে একটি সৌরচালিত সেচ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি মহাসড়কের কিছু অংশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
পুনাখার গুমা গেওগের অন্তর্গত দোচ্চুখ-জোমলিংথাং-রিতসা চিওগে অবস্থিত সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা এই আকস্মিক বন্যায় আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দাদের জল সংকট দূর করার লক্ষ্যে এবছরের শুরুর দিকে এই সেচ ব্যবস্থাটি স্থাপন করা হয়েছিল।
হঠাৎ আসা এই বন্যার ফলে পুনাখা-গাসা মহাসড়কের জোমলিংথাং এলাকায় ধ্বংসাবশেষ ও আবর্জনা এসে জমেছে। দোচুখা-জোমলিংথাং-রিতসা গ্রামের সরকারি প্রতিনিধি এই তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলায় অবস্থিত ওয়াকিলা পর্বতের পাদদেশে শিন্তাফু হ্রদে এই জলস্ফীতির ঘটনা ঘটে। হ্রদটি মো চু নদী অববাহিকার উজানে অবস্থিত। হ্রদটি উপচে পড়লে পানি দক্ষিণ দিকে মো চু নদীতে প্রবাহিত হয়, যার ফলে নদীর ভাটির দিকে পানির তীব্র স্রোত তৈরি হয়।
শিন্তাফু হ্রদটি ভুটানের ১৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের মধ্যে অন্যতম। ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি জানিয়েছে যে, তাকতসিমাখাং এলাকায় জলস্তর পরিমাপের একটি কেন্দ্র রয়েছে। তবে, ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে সেখান থেকে কোনও সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি।
হিমবাহ গলে সৃষ্ট কোনো হ্রদে জমে থাকা জল হঠাৎ বেরিয়ে এলে তাকে ‘গ্লোফ’ (GLOF) বা হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যা বলা হয়। এর ফলে সৃষ্ট জলের প্রবল স্রোত পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে দ্রুত বেগে বয়ে যেতে পারে। এই স্রোত প্রচুর পরিমাণে ধ্বংসাবশেষ বহন করে নিয়ে আসে এবং জনবসতি, রাস্তাঘাট, সেতু ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
শিনতাপু হ্রদটি ভুটানের পুনাৎসাংচু নদী অববাহিকায় অবস্থিত। ভারতে প্রবেশের পর এই নদীটি সঙ্কোশ নদী নামে পরিচিত।
বাংলা ও অসমে বন্যার সতর্কতা
নদীতে আকস্মিক জলস্ফীতির প্রেক্ষিতে ভারত সরকার একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে, যেখানে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর হঠাৎ অনেকটা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, পুনাৎসাংচু নদীর উজানে আকস্মিক বন্যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলা এবং আসামের ধুবড়ি জেলায় জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চল, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলা।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের ত্রাণ এবং আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার জন্য স্কুল ভবনগুলোকে ত্রাণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভুটানে হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যার পর অসমের ধুবড়ি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় জল কমিশন সতর্ক করেছে যে, এর ফলে সংকোশ নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের বন্যা পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ দফতর বলেছে, ভুটানের পুনাৎসাংচু নদীর উজানে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। ভারতে এই নদীটিই সংকোশ নদী নামে পরিচিত।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং ধুবড়ি জেলা প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে সৃষ্ট বন্যার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আমরা ধুবড়ি ও কোকরাঝাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কড়া নজর রাখছি। আমাদের দলগুলো এনডিআরএফ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং প্রয়োজনে যে কোনও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার, সরকারি আপডেট অনুসরণ করার এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।