রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ গরিমা গার্গের ধৃতদের জামিন নাকচ করার দাবি গরিমার

22

নিউজ ডেস্ক: জুবিন গার্গের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে ধৃতদের জামিন পাওয়া নিয়ে সরব গরিমা গার্গ। অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের কাছে জুবিনের স্ত্রী গরিমা গার্গ ও বোন পামি বরঠাকুর আবেদন জানিয়েছেন যেন জুবিনের মৃত্যুর সঠিক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়, অভিযুক্তদের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করা হয় এবং বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।
বুধবার লোকভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জুবিন গার্গের স্ত্রী গরিমা গার্গ এবং বোন পামি বরঠাকুর।
গুয়াহাটি হাইকোর্ট দুই অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছে। এর তীব্র বিরোধ করে গরিমা-পামি জানিয়েছেন যে, এই ঘটনায় তাঁরা অত্যন্ত মর্মাহত ও শঙ্কিত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই, তারা রাজ্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যেন পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি থাকলে উচ্চতর আদালতে এই জামিন চ্যালেঞ্জ করা হয়।
রাজ্যপালকে সাত দফা দাবির একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন গরিমা। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, অসম সরকার সাম্প্রতিক জামিনকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবে বলেছে। আমরা আশা করি যে, এই সিদ্ধান্তটি দ্রুত ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপে রূপান্তরিত হবে।
গরিমা-পামি অসমের অ্যাডভোকেট জেনারেলের অধীনে একটি সমন্বিত আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত, গুয়াহাটি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা সম্ভব হবে।
স্মারকলিপিতে নথিপত্র, ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রমাণগুলো সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রমাণের সঙ্গে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ রোধ করার জন্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। জুবিনের পরিবার সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে যেন একটি সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়।
‘নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল’-এর প্রধান আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত এবং জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার জামিন আবেদনের বিষয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গরিমা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, ধৃতদের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করতে এবং ইতিমধ্যে মঞ্জুর হওয়া জামিনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে আইনত অনুমোদিত সব পদক্ষেপ যেন অবিলম্বে গ্রহণ করা হয়।
এই গায়কের মৃত্যুর ঘটনায় শ্যামকানু মহন্ত, সিদ্ধার্থ শর্মা, তাঁর দলের সদস্য শেখরজ্যোতি গোস্বামী ও অমৃতপ্রভা মহন্ত, জুবিনের আত্মীয় অসম পুলিশের ডিএসপি সন্দীপন গার্গ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা নন্দেশ্বর বরা ও পরেশ বৈশ্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম ও সন্দেহজনক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়েও একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি দফতরের সিল ও স্ট্যাম্প উদ্ধার, একাধিক প্যান কার্ড থাকা, এবং জুবিনের উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ ও তহবিল অন্য খাতে সরিয়ে ফেলার মতো অভিযোগ।
সন্দীপন গর্গ ও অমৃতপ্রভা মহন্ত ইতিমধ্যে জামিন পেয়েছেন এবং এই মাসের প্রথমদিকে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় জুবিন গার্গের মৃত্যু ঘটে। তিনি সেখানে ‘নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল’-এর চতুর্থ সংস্করণে যোগ দিতে গিয়েছিলেন।
রাজ্যজুড়ে ৬০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের হওয়ার পর, অসম পুলিশের সিআইডি এই মৃত্যুর তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।
সিঙ্গাপুর পুলিশ বাহিনী একটি পৃথক তদন্ত চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় যে, সেখানে কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিঙ্গাপুরের করোনার্স কোর্টও কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, জুবিন তখন প্রচণ্ড নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং লাইফ জ্যাকেট নিতে অস্বীকার করার পর লাজারাস দ্বীপের কাছে সমুদ্রে ডুবে মারা যান।
তবে অসম সরকার জানিয়েছে যে, সিঙ্গাপুরের তদন্তের ফলাফল অসম আইনি প্রক্রিয়ার ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না।