‘অভয়া’র দেহ তড়িঘরি সৎকারের অভিযোগ, গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

31

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: শেষ রক্ষা আর হল না। অবশেষে পুরী থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ । অভয়ার মৃতদেহ তড়িঘড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে। মাঝে পার হয়ে গেছে দু’বছর । পালাবদলের পর নতুন করে অভিযোগ দায়ের হয় তাঁর বিরুদ্ধে। তিলোত্তমার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আজ তাঁকে ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নিয়ে এসে আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

তিলোত্তমার স্মরণসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “দয়া করে নতুন কেস চালু করুন। দ্রুত অ্যকশন নিন। আমার যা করার আছে করব। অভয়াকে ভুলিনি। মানুষ জিতিয়েছেন এই কেসের বিচারের জন্য। আমি কমিটেড।” এরপরই তিনদিনের মধ্যেই গ্রেফতার হল নির্মল ঘোষ।

গত ৯ অগস্ট ২০২৬। ঠিক দু’বছর। নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১০ অগস্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অভয়ার বাবা। শুধু নির্মল ঘোষ নন, একইসঙ্গে প্রাক্তন কাউন্সিলর সোমনাথ দে ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফ আই আর করা হয়। এরপর আজ গ্রেফতার করা হল নির্মল ঘোষকে। সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

২০২৪-এর ৯ অগস্ট রাতে আরজি কর-কাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের দেহ যখন শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন অতি দ্রুততার সঙ্গে তিলোত্তমার দেহ দাহ করা হয় বলে অভিযোগ । সেই সময় নির্মল ঘোষ ছিলেন পানিহাটির বিধায়ক। অভিযোগ তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন দ্রুত দেহ সৎকার করার। আরও অভিযোগ, শ্মশানের নথিতে সেদিন অভয়ার পরিবারের সদস্যদের সই করতে দেওয়া হয়নি। সই করেছিলেন নির্মল ঘোষ।

গত বিধানসভা নির্বাচনে নির্মল ঘোষকে টিকিট না দিয়ে টিকিট দেওয়া হয়েছিল তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে। হেরে যান। পালাবদলের পর বাবা- ছেলে দুজনেই বেপাত্তা। যদিও তীর্থঙ্কর ঘোষ আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চান। পরে ঋতব্রত-শিবিরের একটি বৈঠকে দেখা যায় নির্মল ঘোষকে।