উত্তরাখণ্ডে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর

22

নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের হলদিওয়ানিতে বাল্মীকি সম্প্রদায়ের এক সদস্যের অভিযোগের ভিত্তিতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, হলদিওয়ানির রামলীলা ময়দানে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে রাহুল গান্ধী অস্পৃশ্যতার অনুষ্ঠান বলেছেন।
জওহর নগরের বাসিন্দা এবং শ্রীরাম সেনা ধর্মার্থ সেবা ন্যাসের সদস্য অমিত কুমার হলদিওয়ানি থানায় অভিযোগে লিখেছেন যে তিনি ধর্মীয় আচার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-এ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানকে রাহুল গান্ধী অস্পৃশ্যতার মোড়কে তুলে ধরেছেন। এজন্য গোষ্ঠীগত শত্রুতায় ইন্ধন জোগানো, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯ প্রয়োগ করা হয়েছে। কুমারের দাবি, রামলীলা ময়দানের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তফসিলি সহ সর্বস্তরের মানুষ জড়িত ছিল। এর সঙ্গে মল্লিকার্জুন খাড়গের সভার কোনও সম্পর্ক নেই।
৮ আগস্ট উত্তরাখণ্ডের হলদিওয়ানির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের সভায় ভাষণ পেশ করেন রাজ্যসভার সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে। ১০ আগস্ট আরএসএস-বিজেপি ঘনিষ্ঠ কিছু লোক সেখানে ‘শুদ্ধকরণে’র আয়োজন করে। রাজ্যসভায় ১৩ আগস্ট মল্লিকার্জুন খাড়গে এই বিষয়টি উল্লেখ করে খেদ প্রকাশ করেন। যদিও রাজ্যসভার লিডার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা, যিনি নিজে উত্তরাখণ্ডের সাংসদ, বলেছিলেন, বিষয়টা খুবই দুঃখের। উত্তরাখণ্ড সরকার এবিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে।
রাহুল গান্ধী বলেছেন, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী যে কোনও ধরনের অস্পৃশ্যতা অপরাধ। শুদ্ধকরণ অস্পৃশ্যতারই আরেক রূপ। শুধু নাম বদলে গেছে, বিষয়টা একই। যারা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভার পর রামলীলা ময়দানের শুদ্ধকরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর করার দাবি রাহুল গান্ধীর।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ২০ দিন পেরিয়ে গেছে, কিন্তু উত্তরাখণ্ড সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি।
উত্তরাখণ্ডে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর হওয়ার পর কংগ্রেস সাংসদ কুমারী শৈলজা বলেছেন, মল্লিকার্জুন খাড়গের জনসভার পর যারা শুদ্ধকরণ অনুষ্ঠান করেছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি উত্তরাখণ্ড সরকার। রাহুল গান্ধী তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দাবি করার পর তাঁর বিরুদ্ধেই এফআইআর করা হয়েছে! এটাই কি বিজেপি সরকারের বিচার? প্রশ্ন কুমারী শৈলজার।