নিউজ ডেস্ক: লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে হড়পা বানে নেপালে মৃতের সংখ্যা। সোমবার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০৩, নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ অন্তত ৪২০০। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কত আটকে আছে তার কোনও হিসেব নেই।
বুধবার তিব্বত-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ হ্রদ ফেটে জল, কাদামাটির স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নেপালের অন্তত চারটি জেলা। নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং এবং চিতোয়াল জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
হড়পা বানে তিব্বতে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। এখনও নিখোঁজ ৫৪৬, জানিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে ৪৯ ভারতীয় রয়েছে বলে জানিয়েছে বেজিং। ওই ৪৯ জনই তামিলনাড়ুর বাসিন্দা বলে অনুমান। তামিলনাড়ুর এক ভ্রমণ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের ৪৯ জনের একটি পর্যটকদল কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়েছিল। বুধবারের পর থেকে তাঁদের কারও সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
নেপালে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে নেপাল, ভারত ও চিনের বিশেষজ্ঞ দল। নেপালের চিলিমে এবং লাংটাংয়ে ভারতের একটি উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, অন্তত ২১ হাজার পুলিশ, নিরাপত্তা কর্মী কাজ করছে উদ্ধারে। রেড ক্রসের হিসেবে অন্তত ৯০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।
নিখোঁজ ৪২০০ জনের মধঅযে ৩২০ বিদেশি নাগরিক। এখনও বহু দেহ কাদামাটির পুরু স্তরের নীচে রয়েছে, যা উদ্ধার করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে নেপাল প্রশাসন।
নেপালের আটটি জেলা থেকে পরের পর দেহ উদ্ধার হয়েছে। চিতোয়ান থেকে ২৭২, নওয়ালপারসি পূর্ব থেকে ২০৭, নওয়ালপারসি পশ্চিম থেকে ১৫১ এবং গোর্খা জেলা থেকে ৬২ দেহ উদ্ধার হয়েছে। নুয়াকোটে ৯৫, ধাদিংয়ে ৫৫, তানাহুতে ৩৭ এবং রাসুয়ায় ২৪ দেহ উদ্ধার হয়েছে। জলের তোড়ে বহু দেহ মূল ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে গিয়েছে।
দেহ উদ্ধার হলেও সঠিক শনাক্তকরণ হচ্ছে না বহু ক্ষেত্রেই। কবর দেওয়ার আগে নেপালি কর্তৃপক্ষ মৃতদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে। নেপালের মর্গে আর জায়গা হচ্ছে না। কয়েকটি ভবনে দেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংরক্ষণের পরিকাঠামো নেই।
নেপালে কোন সুড়ঙ্গের ভেতরে কত জন আটকে রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। আনুমানিক ৯০০ শ্রমিক আটকে পড়ে নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে। তাদের মধ্যে সাড়ে তিনশোর কিছু বেশি শ্রমিককে উদ্ধার করা গেলেও বাকিদের কোনও সন্ধান মেলেনি। অন্তত ৫৩৭ জন শ্রমিকের কোনও খবর মেলেনি। সোমবার সকাল পর্যন্ত নেপালের বানবিধ্বস্ত এলাকা থেকে ৯০৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে।
রাসুয়া এবং নুয়াকোট জেলায় ত্রিশূলি নদীর ওপর নয়টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। পাঁচটি নির্মীয়মাণ। হড়পা বানের জেরে এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গমুখগুলি চাপা পড়ে যায় কাদামাটির স্তূপের নীচে। কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপ এতটাই বেশি জমে গিয়েছে যে থার্মাল ড্রোন দিয়েও কিছু শনাক্ত করা যাচ্ছে না।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে লাংটাং হিমল পর্বতমালার লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের উত্তরে বিপর্যয়ের উৎপত্তি। প্রায় ৫২০০ মিটার উচ্চতায় ছিল হিমবাহটি। তা ভেঙে আছড়ে পড়ে ১২০০ মিটার নীচে। বরফের চাঁই ভেঙে পড়ায় তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.২. যদিও ভূমিকম্প হয়নি।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, হিমবাহ ধসের কারণে তিব্বতের গিরং কাউন্টি থেকে উৎপন্ন লেন্দে খোলা নদী প্রথমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। ফলে সেখানে একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যে জলের চাপে তা ফেটে যায়। লেন্দে খোলা নদীই পরে ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলিতে এসে মিশেছে। ফলে জলের সম্পূর্ণ চাপ গিয়ে পড়ে ওই দুই নদী এবং তাদের অববাহিকায়। ধাদিং জেলায় ত্রিশূলি নদীর জলস্তর ৩০ মিনিটে ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল।
Next Post