নিউজ ডেস্ক: দুদিনের সফরে তিনসুকিয়া গিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনসুকিয়ার রাস্তা তৈরি ও সংস্কারের জন্য ২০০ কোটি এবং আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের জন্য ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করেছেন হিমন্ত।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তিনসুকিয়ার জন্য বড় আকারের সড়ক, নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও নাগরিক পরিকাঠামোর ঘোষণা করেছেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শহরের পরিকাঠামো আধুনিক করা এবং পুর পরিষেবাগুলোর প্রাপ্যতা সহজতর করা।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তিনসুকিয়ায় সড়ক ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা এবং একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক শহর তিনসুকিয়ার পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে এটি নতুন পদক্ষেপ।
তিনসুকিয়ার ‘মানব কল্যাণ পূজা ভবন’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন। সেখানে তিনি পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের আওতায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি পরিকাঠামো প্রকল্পের ভিতপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ছাড়া, পুর পরিষেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার লক্ষ্যে তিনি ‘সমগ্র সেবা’ নামে একটি সমন্বিত ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনও চালু করেন, যা ১.৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অসমের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও ঐতিহাসিক শহর তিনসুকিয়া বহু বছর ধরে রাজ্যের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। অন্যান্য শহরের তুলনায় এই শহরটি কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে, স্বীকার করে তিনি জানান, শহরের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
হিমন্ত বলেন, রাস্তাঘাট ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন শহরের অন্যতম জরুরি প্রয়োজন। তাই রাজ্য সরকার সড়ক নেটওয়ার্ক ও নিষ্কাশন পরিকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
তিনি ‘ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার অফিস’ তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরকে একই ছাদের নীচে নিয়ে আসা হবে। এ ছাড়া, সভা, সম্মেলন ও বিভিন্ন গণ-অনুষ্ঠান আয়োজনের সুবিধার্থে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০০ আসনবিশিষ্ট একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হবে।
অন্যান্য প্রস্তাবিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে একটি বাস টার্মিনাল, বহুতল গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, কাচুজান স্টেডিয়ামের উন্নয়ন, জেলা গ্রন্থাগারের আধুনিকীকরণ এবং তিনসুকিয়া শহরজুড়ে পথবাতি স্থাপন।
পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের অর্থায়নে তিনসুকিয়া মিউনিসিপ্যাল বোর্ড যে চারটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তা মূলত শহুরে পরিকাঠামো ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের সরকারি প্রচেষ্টারই অংশ।
হিমন্ত শহিদ পিওলি ফুকন খেলার মাঠ-এর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৪.৫৪ কোটি টাকা এবং ‘বার গোধা পুকুর’-এর সংস্কারের জন্য ২.৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেন।
‘সমগ্র সেবা’ অ্যাপের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হিমন্ত বলেন, পুরপ্রশাসনকে আধুনিকীকরণ করা এবং বাসিন্দাদের জন্য নাগরিক পরিষেবাগুলোকে আরও সহজলভ্য করে তোলার লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছে।
হিমন্ত আরও জানান, তিনসুকিয়া জেলায় একটি মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের পর সরকার সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্যও কাজ করবে।
Prev Post