নিউজ ডেস্ক: চার রাজ্যে বিধান পরিষদ নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারেনি বিরোধী দল কংগ্রেস। তাদের তুলনায় বরং ভালো ফল করেছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলি। তবে শেষ পর্যন্ত খাতা খুলেছে কংগ্রেস। এবং সেটাও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদর দফতর নাগপুরে। যা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনীশেরও দুর্গ। এবং এখানেই ১৯৯০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বিধান পরিষদের সদস্য ছিলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকরি। সম্মান বাঁচানোর লড়াইয়ে নাগপুরে শেষ পর্যন্ত জয়ী কংগ্রেস। জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর খোঁচার জবাব দিয়েছে কংগ্রেস। মোদীর উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন কংগ্রেসের, বলুন তো নাগপুরে কে জিতল?
উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং কর্নাটকের ২৮টি আসনে বিধান পরিষদ নির্বাচন হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোথাও জয়ীর তালিকায় কংগ্রেস ছিল না। এনিয়ে প্রধানমন্ত্রী খোঁচা দেন কংগ্রেসকে। সমাজমাধ্যমে লেখেন, চার বড় রাজ্যের ২৮ আসনে বিধান পরিষদ নির্বাচন হল। ব্যালট পেপারেই ভোট হয়েছে। বলুন তো কংগ্রেস কটা আসনে জিতল? সঙ্গে চোখে আতশকাচ ধরা একটি ‘ইমোজি’ও জুড়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর পোস্টের পর স্বাভাবিকভাবে বিজেপির বিভিন্ন নেতাও খোঁচা দিতে শুরু করেন কংগ্রেসকে। তখনও নাগপুর আসনের গণনা শেষ হয়নি। নাগপুরে বিজেপির সুধাকর কোহালেকে পিছনে ফেলে দেন বিধান পরিষদের বিদায়ী সদস্য তথা কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ ওয়াংজারি। শেষ পর্ষন্ত ৩,২৭১ ভোটে জয়ী হন কংগ্রেস প্রার্থী।
শুধু নাগপুরেই নয়, মহারাষ্ট্রের পাঁচ আসনের মধ্যে তিনটিতেই পরাস্ত হয়েছে মহারাষ্ট্রের বিজেপি-শিন্ডে সেনার শাসক জোট। বিজেপি এবং একনাথ শিন্দের দল পেয়েছে একটি করে আসন। কংগ্রেস জিতেছে একটিতে। বাকি দুটি আসনে জয়ী হয়েছে শারদ পওয়ারের এনসিপি।
অন্য দিকে, উত্তরপ্রদেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতেও একটি আসনে হারতে হয়েছে বিজেপিকে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের পাটনায় হেরেছে বিজেপি। পাটনা, নাগপুর এবং বারাণসীতে বিজেপির ধাক্কা খাওয়া নিয়ে মোদীকে পাল্টা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, আর তারপর… মোদী সাহেব নিজের লোকসভা কেন্দ্রেরই বিধান পরিষদ আসন হারালেন। শুধু তাই নয়, নাগপুরেও বিজেপি হেরে গেল। বলুন তো, নাগপুরে কারা জিতল?
কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পোস্টের পরই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীশ কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে পোস্ট করেন। নাগপুরের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই মূল পোস্টটি বর্তমানে দেবেন্দ্র ফডনবীশের হ্যান্ডলে আর দেখা যাচ্ছে না।