উলুবাড়ি হত্যাকাণ্ড ব্যক্তিগত আক্রোশ: হিমন্ত

22

নিউজ ডেস্ক: উলুবাড়ির হোটেল বিলাস ইন-এ শিহরনকারী হত্যাকাণ্ডকে নিছক ব্যক্তিগত আক্রোশ বলে অভিহিত করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এইসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের রিভলভারের লাইসেন্স অসমের নয়, নাগাল্য়ান্ডের। কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে রিভলভারের লাইসেন্স দেওয়া হল সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের বন্দুকের লাইসেন্সটি অসম সরকার নয়, বরং নাগাল্যান্ড সরকার দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, কী পরিস্থিতিতে এই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
যে পরিস্থিতিতে লাইসেন্সটি দেওয়া হয়েছিল, তা আমাদের বোঝা প্রয়োজন। এটি আসাম সরকার দেয়নি, বলেছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
ঘটনাটিকে একটি ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে বর্ণনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
এটি একটি ব্যক্তিগত বিবাদ ছিল এবং পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। আমি নিশ্চিত যে আইন তার নিজস্ব পথে চলবে, বলেন হিমন্ত।
গুয়াহাটির হোটেল বিলাস ইন-এ পাঁচজনকে হত্যায় অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈইকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে কামরূপ (মেট্রো) জেলা আদালত।
লাচিত নগরের একটি হোটেলের লিজ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধের জেরে এই গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হোটেলের ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত মতপার্থক্য মেটানোর জন্য আয়োজিত একটি বৈঠকের সময় ঘনকান্ত ছয় ব্যক্তির ওপর গুলি চালান।
এই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ষষ্ঠ ব্যক্তি সত্যেন্দ্র পাঠক বর্তমানে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ৩৪ বছর বয়সি ঘনকান্ত গগৈ ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ হোটেল মালিকদের সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য একটি লিজ চুক্তি করেছিলেন, যার মাসিক ভাড়া ছিল প্রায় ১.৮ লক্ষ টাকা। হোটেলটি সংস্কারের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়, যা থেকে হোটেলের ব্যবহার এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয় নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত।
২৬ অক্টোবর আয়োজিত বৈঠকের সময় এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয় এবং এরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি গুলি চালান।
মূলত ডিব্রুগড়ের বাসিন্দা এবং বর্তমানে গুয়াহাটির সাউকুচি এলাকায় বসবাসকারী ঘনকান্তকে বশিষ্ঠ থানা এলাকা থেকে শনাক্ত করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত পিস্তলটিও পুলিশ উদ্ধার করেছে।
ঘটনাটির তদন্তের জন্য যুগ্ম পুলিশ কমিশনার অঙ্কুর জৈনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে গুলির খালি খোসা এবং .৩২ ক্যালিবারের তাজা কার্তুজ।