কল্যাণ ‘নারীবিদ্বেষী’, স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি কাকলির
নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীনই দলের সাংসদদের অন্তর্কলহ নিয়ে একাধিকবার অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। মূলত দলের মহিলা সাংসদদের সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক ও আচরণ নিয়ে বারবার প্রকাশ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। রাজ্যের ক্ষমতার হাত বদলের পর এবার সরাসরি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মৌখিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে অভিযোগ দায়েরের অনুমতি চেয়েছেন কাকলি।
স্পিকারকে লেখা চিঠিতে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন কাকলি। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘লোকসভার ভিতরে মৌখিকভাবে হেনস্থা করার প্রতিকার চেয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য আপনার অনুমতি প্রার্থনা করছি। মহিলা সাংসদদের প্রতি নারীবিদ্বেষী মনোভাবের জন্য তাঁর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।’
স্পিকারকে লেখা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জবাব, ‘ধরে নিচ্ছি লোকসভায় তাঁকে কিছু খারাপ কথা বলেছি। কিন্তু এতদিন পর কেন? তৎক্ষণাৎ কেন স্পিকারকে জানাননি? সেটাই তো নিয়ম। ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। কোনও মতলব থেকেই এসব কথা বলছেন তিনি।’

কিছুদিন আগেই কল্যাণীতে নতুন বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে খুব তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি বলেছিলেন, যেখান পদের কোনও মর্যাদা নেই, সেই পদে থাকার কোনও মানে হয় না। কাকলির এই মন্তব্যের নিশানায় যে কার্যত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন তার ইঙ্গিত ছিল। বাংলায় ভোটের বেশ কয়েক মাস আগে লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এসআইআর পর্বে কমিশন-রাজ্য চরম সংঘাত, হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্টে লড়াই ইত্যাদির পর ফের কাকলিকে সরিয়ে দিয়ে মুখ্য সচেতক পদে আনা হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মূলত আদালতে দলের হয়ে সওয়াল এবং সে সময় তৃণমূলের পক্ষে কিছুটা ‘সন্তোষজনক’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একথায় খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগগুলির পক্ষে কিছুটা হলেও জনমানসে বলার মতো কিছু একটা এনে দিতে পেরেছিলেন কল্যাণ। তারই ফলস্বরূপ কল্যাণকে পদ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টিকে এভাবেই অনেকে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তখনই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে দলকে বিঁধেছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তারপর রাজ্যের ক্ষমতার বদলের পরের টাটকা অগ্রগতি সকলেরই জানা।
কাকলির এদিনের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের আশঙ্কা আদৌ কি কল্যাণের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করবেন স্পিকার ওম বিড়লা। একটি অংশ বলছে স্পিকারের সঙ্গে কল্যাণের সম্পর্ক ভালো। ফলে কাকলির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার এখন কী সিদ্ধান্ত নেন বা আদৌ নেন কিনা, সেদিকে তাকিয়ে সকলে।