জলঙ্গি থেকে ফের গ্রেফতার ৭ বাংলাদেশি, পাঠানো হল হোল্ডিং সেন্টারে

23

বিনয় রায়, মুর্শিদাবাদ: হাওড়ার জগাছা, মালদহের গাজোলের পর এবার মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির বিদুপুর থেকে গ্রেফতার ৭ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে অভিযান চালায় জলঙ্গি থানার পুলিশ। অভিযানে ধরা পড়ে ৭ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। পুলিশ সূত্রের খবর ধৃতদের বাড়ি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর এলাকায়। ধৃতদের মঙ্গলবার সকালে লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয় ।

উল্লেখ্যে রবিবারই বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশিকা জারি করেছিল নবান্ন। নির্দেশিকা জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার মালদহের ইংরেজবাজারের চন্দনপার্কে হোল্ডিং সেন্টার চালু হয়ে যায়। গাজোলের পাণ্ডুয়া থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে ধৃত ৯ জনকে ইতিমধ্যেই রাখা হয়েছে হোল্ডিং সেন্টারে। এর মধ্যে ৩ মহিলা ও ৬ নাবালক ও নাবালিকা।

ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার চালু করেছে রাজ্য সরকার। সেখানে আঁটসাঁটো করা হয়েছে নিরাপত্তা। নিরাপত্তার দায়িত্বে রাজ্য পুলিশ,সিভিল ডিফেন্স এবং সিভিক ভলান্টিয়াররা। রান্নার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে রাঁধুনিও। হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের আটকের পর ৩০ দিন রাখা হবে। অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ধৃতেরা তো বটেই,যাঁরা এর আগে ধরা পড়েছিলেন এবং বন্দি ছিলেন, তাঁদের দেশের বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হোল্ডিং সেন্টার চালু নিয়ে এখনও পর্যন্ত খুব একটা বিরোধিতা লক্ষ্য করা যায়নি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে।

অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশিকা আগেই জারি করেছিল কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, পূর্বতন রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সেই নির্দেশ পালন করেনি। তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে ওই সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা হয়েছে। সি‌এএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অন্তর্ভুক্ত নন যাঁরা, এ বার তাঁদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে। বিএসএফ তাঁদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করবে।