জাল নথিতে অসমের হাতি পাচার!

21

নিউজ ডেস্ক: জাল নথিপত্র বানিয়ে অসমের হাতি রাজস্থানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ। সম্প্রতি রাজস্থানে মোহন নামে একটি হাতিকে আটকানো হয়। অসমের গোলাঘাট থেকে মোহনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রাজস্থানে। হাতি নিয়ে যাওয়ার নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই বিস্তর অসংগতির খোঁজ পায় রাজস্থান পুলিশ। রাজস্থানে একজনকে গ্রেফতার করা হলেও এই ঘটনায় অসমে কেউ গ্রেফতার হয়নি।
অসমের হাতি রাজস্থানে পাচার করতে অসমের মুখ্য বন্যপ্রাণ ওয়ার্ডেনের সই জাল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। হাতি স্থানান্তরের প্রটোকল নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এইসঙ্গে হাতি সংরক্ষণে নজরদারির অভাব প্রকট হয়ে ফুটে উঠেছে।
অসমের প্রিন্সিপাল চিফ কনজারভেটর অব ফরেস্ট তথা চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন বিনয় গুপ্ত বলেছেন, এটা একেবারেই বেআইনি স্থানান্তর। অসম থেকে হাতিটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রাজস্থানের জয়পুরে। এ কাজে জাল নথি ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি আমার সই জাল করা হয়েছে। আমরা এবিষয়ে যোগাযোগ করেছি রাজস্থানে বনবিভাগের সঙ্গে। তারপরই হাতিটিকে আটকানো হয়। এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজস্থানে।
বর্তমানে হাতিটি রয়েছে রাজস্থানের বনবিভাগের অধীনে। আমরা হাতিটিকে অসমে ফিরিয়ে আনব, তবে এটা আইনের হাতে চলে গিয়েছে। এ ছাড়া লখিমপুর আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে, দিশপুর থানায় একটি অভিযোগও করেছি। সই জাল ও হাতি পাচার নিয়ে আমাদের বনবিভাগ একটি তদন্ত করবে, বলেছেন মুখ্য বন্যপ্রাণ ওয়ার্ডেন বিনয় গুপ্ত।
মোহন লখিমপুরের হলেও স্থানান্তরের সময় ছিল গোলাঘাটে। অসমের বন্যপ্রাণ কর্মীরাও এবিষয়ে সোচ্চার হয়েছে। রাজস্থানের ঘটনা সামনে এসেছে, কিন্তু এর আগে আরও একটি পূর্ণবয়স্ক হাতিকে, যার নাম রামপ্রসাদ, কোনও নিয়মের তোয়াক্কা না করেই দক্ষিণ ভারতের এক ক্রেতাকে বিক্রি করা হয়েছে, বলেছেন বন্যপ্রাণ কর্মীরা।
অসমের হাতি নজরদারির ম্যানেজিং ট্রাস্টি শ্যামন্তরাম ফুকন বলেছেন, বনবিভাগ ও অসম সরকারের এবিষয়ে নজর দেওয়া উচিত যাতে কিছুতেই বেআইনি উপায়ে হাতি পরিবহণ, স্থানান্তর আটকানো যায়।
যদি বিনয় গুপ্ত দক্ষিণ ভারতে বেআইনিভাবে হাতি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, এরকম কোনও খবর আমাদের কাছে নেই। যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে অভিযোগ পেলেই আমরা পদক্ষেপ করব।
কাজিরঙা বন্যপ্রাণ সোসাইটির পরিবেশবিদ মুবিনা আখতার বলেছেন, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন, ১৯৭২ এং হাতি স্থানান্তরের নিয়ম, ২০২৪ মোতাবেক হাতি সংরক্ষণ এবং স্থানান্তর বা বিক্রি হচ্ছে না। মাঝে মধ্যেই বেআইনিভাবে হাতি নিয়ে যাওয়ার খবর খুবই আশঙ্কাজনক।
এশিয় হাতি রয়েছে বন্যপ্রাণের প্রথম সূচিতে এবং তাদের সংরক্ষণের জন্য সর্বোচ্চ নজরদারি দরকার। যে কোনও স্থানান্তর, বিক্রি, দান অথবা অসমের বাইরে হাতি নিয়ে যেতে হলে সব নথিপত্রের কড়া নিরীক্ষণ প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য হল, এটা করা হচ্ছে না, বলেছেন মুবিনা আখতার।
হাতি স্থানান্তরের জন্য খুব কড়া প্রক্রিয়া রয়েছে। জেনেটিক প্রোফাইলিং, মালিকানা খতিয়ে দেখা, স্বাস্থ্যের সার্টিফিকেট সবকিছু খতিয়ে দেখা হয়। তারপরও বেআইনিভাবে হাতি স্থানান্তর চলছে, কীভাবে? প্রশ্ন মুবিনার। বোঝাই যাচ্ছে এটা পাচারকারীদের কাজ এবং এব্যাপারে তদন্তের প্রয়েজান।