হাতির নীরব ঘাতক হার্প ভাইরাস

9

নিউজ ডেস্ক: অসমের হাতির নতুন এবং নীরব ঘাতক হয়ে উঠেছে হার্প ভাইরাস। এক দশকে এই ভাইরাসের আক্রমণে অসমে ২০টা হাতির মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসের আক্রমণ বিশেষ করে দেখা যাচ্ছে পালিত হাতির ক্ষেত্রে।
এবছর নামেরি ও তিনসুকিয়ায় মৃত দুটি হাতির শরীরে পাওয়া গেছে হার্প ভাইরাস। আরেকটি হাতির শরীরে পাওয়া গেছে এই ভাইরাস। কাজিরঙায় ২০২৪ সালে মৃত একটি বুনো হাতির শরীরেও পাওয়া গিয়েছিল এই ভাইরাস।
গত এক দশকে হার্প ভাইরাসের আক্রমণে ২০টা হাতির মৃত্যু হলেও পরিবেশবিদদের দাবি এই সংখ্যা আরও বেশি। সব হাতিকে পরীক্ষা করলে এটা প্রকাশ পাবে, বলেছেন পরিবেশবিদ কৌশিক বরুয়া। তাঁর কথায়, এশিয় হাতি গোটা জীবনে ২-৩ বাচ্চার জন্ম দিতে পারে। এই ভাইরাসের জেরে হাতির সংখ্যা কমছে।
এশিয় হাতিদের মধ্যে কার্প ভাইরাসের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। রক্তজালিকায় আবরণ সৃষ্টি করে এটি হাতিকে দুর্বল করে দেয়। এই রোগের লক্ষণ হল মাথা ও অন্যান্য প্রত্যঙ্গ ফুলে যাওয়া। জিভের রং বদলে যাওয়া। রোগে আক্রান্ত হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু ঘটে হাতির।

প্রতীকী ছবি


এই ভাইরাস সাধারণত আক্রমণ করে বাচ্চা হাতিদের। ১ থেকে ৮ বছর বয়সি হাতিদের ক্ষেত্রে এর আক্রমণ বেশি। এই রোগে আক্রান্তর মৃত্যু হার ৯০ শতাংশ। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ঘরে পোষা হাতিদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসে আক্রান্তর সংখ্যা বেশি।
কিছু প্রাপ্তবয়স্ক হাতির শরীরেও এই ভাইরাস পাওয়া গেছে, তবে তাদের মৃত্যু হার নগণ্য। তবে এর ফলে হাতির শরীরে দুধের পরিমাণ কমে যায় এবং আক্রান্ত হাতির থেকে ভাইরাস বাহিত হয় বাচ্চা হাতির শরীরে।
পশু চিকিৎসক ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন, ঘরে পোষা হাতি সাধারণত একাকী থাকে। তাদের শরীরে এই ভাইরাসের প্রকোপ বেশি। যদিও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথমেই চিকিৎসা হলে ততটা আশঙ্কার কিছু নেই।
২০১৩ সালে হাতির শরীরে হার্প ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৩ থেকে ২০১৯, এই ছয় বছরে দক্ষিণ ভারতে হার্প ভাইরাসের আক্রমণে ১৩টা হাতির মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে পোষা হাতির সংখ্যা ৮।