নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন প্রকল্প হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকার ক্ষেত্রে নজর সৃষ্টি করেছে অসম। এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে জরায়ুমুখ ক্যানসার থেকে কিশোরীদের রক্ষা করতে।
২১ জুন পর্যন্ত অসমে এই টিকা নিয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ২৬ হাজার কিশোরী। অসমের লক্ষ্য সব কিশোরীকে এই টিকা দেওয়া। ৩.২৭ লক্ষ কিশোরীর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশের টিকাকরণ হয়ে গেছে। এবছর জুলাই মাসের মধ্যেই সব কিশোরীর টিকাকরণ লক্ষ্য অসম পরিবার কল্যাণ বিভাগের। এই প্রকল্পে পরিবার কল্যাণ বিভাগকে সাহায্য করছে ন্যাশনাল হেলথ মিশন (এনএইচএম) এবং স্কুলশিক্ষা বিভাগ। স্কুল ইন্সপেক্টর, প্রিন্সিপাল, স্কুলপ্রধানরা সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছেন এই প্রকল্প সাকার করার লক্ষ্যে।
ভারতের ক্যানসার আক্রান্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখ ক্যানসার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এইচপিভি টিকাকরণ না হওয়াই এর মূল কারণ। ১৪-১৫ বছর বয়সি কিশোরীদের এই টিকা দিলে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায় বলেই বিশেষজ্ঞদের দাবি। গোটা দেশেই এবিষয়ে প্রচার ও জনসচেতনতা জরুরি।
২৮ ফেব্রুয়ারি এই প্রকল্প ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৭ মার্চ অসমে এই প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে। তারপর অসমের ৩৪ জেলায় চারশোর বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলছে কিশোরীদের টিকাকরণ। টিকাকরণের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

মে মাসে একদিনে ৫০০ থেকে ৩৫০০ কিশোরীকে টিকা দেওয়া হত। ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে। জুন মাসে দৈনিক টিকাকরণের গড় ১০ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। কামরূপ (মেট্রো) জেলায় ১০০ শতাংশ টিকাকরণ সম্পন্ন। মরিগাঁওয়ে ৯৪ শতাংশ, মাজুলিতে ৮৬ শতাংশ, নলবাড়িতে ৮২ শতাংশ, বঙাইগাঁওতে ৮১ শতাংশ কিশোরীর টিকাকরণ হয়েছে।
তবে পশ্চিম কার্বিআংলং, শোণিতপুর, কোকরাঝাড়, দক্ষিণ শালমারা, যোরহাট ও চরাইদেও টিকাকরণের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।