নিউজ ডেস্ক: অসমের ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগরের নেপালি খুঁটি এলাকা। বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘুরছেন উজান অসমের বিভিন্ন প্রান্তে। তাঁর কাছে নেপালি খুঁটির বাসিন্দাদের আর্জি, দিখৌ নদীর জল আটকাতে একটি গার্ডওয়াল তৈরির এবং পাশাপাশি অবৈধ খনন বন্ধ করার।
বিহুবর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নেপালি খুঁটির ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বন্যার জলে ধুয়ে গেছে ২৮২ ঘর। মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের। ভেসে গেছে দৈনন্দিন রান্নার সরঞ্জাম, সরকারি নথিপত্র।
নেপালি খুঁটি এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে অবৈধ পাথর ও বালি খননের ফলে দিখৌ নদীর পাড় আলগা হয়ে পড়েছে। এর থেকে বাঁচার উপায় হল দিখৌ নদীর পাশে গার্ডওয়াল এবং অবৈধ খনন বন্ধ করা।
নেপালি খুঁটির বিনোদ শর্মা ২৯টি গরু হারিয়েছেন চলতি বন্যায়। তিনি বলেন, একমাত্র একটা গরু বাঁচাতে পেরেছি। খুব দামি গরু ছিল, সাহিওয়াল, জার্সি এবং গির প্রজাতির গরু। ডেয়ারি ছিল আমার রোজগারের একমাত্র উৎস।
নেপালি খুঁটির অধিকাংশ বাসিন্দার উপার্জনের উপায় ডেয়ারি ফার্মিং। গরুর দুধ, মিষ্টি বিক্রি করেই দিন গুজরান হত এলাকার বাসিন্দাদের। ভয়ংকর বন্যায় অধিকাংশ গরু-মহিষ ভেসে গেছে।
বন্যায় গৃহপালিত জীবজন্তুর ক্ষতি পূরণে এগিয়ে এসেছে অসম সরকার। শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট এবং গোলাগাট জেলার বন্যার্তদের গৃহপালিত জীবজন্তুর ক্ষতি পূরণে একগুচ্ছ আর্থিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। গরু সহ বড় গৃহপালিত তিনটি পর্যন্ত জন্তুর মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ ৩৭,৫০০ টাকা করে, ৩০টি পর্যন্ত গৃহপালিত ছাগল বা শুয়োরের মৃত্যুতে ৪০০০ টাকা করে এবং ১০০টি পর্যন্ত হাঁস-মুরগির মৃত্যুতে ১০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা করবে সরকার।
গ্রামবাসীদের চাহিদা শুনে হিমন্ত বলেছেন, ৯ আগস্ট থেকে বন্যায় ক্ষতির মূল্যায়ন শুরু করবে সরকার। এইসঙ্গে তিনি জানান, বন্যায় যেসব গাড়ির ক্ষতি হয়েছে সেগুলির ক্ষেত্রে বিমা থেকে অর্থের ব্যবস্থা করবে সরকার।