নজরে সংবিধান সংশোধনী বিল

37

নিউজ ডেস্ক: ফের একটি সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অসম-পশ্চিমবঙ্গ-কেরলম-তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ বিল এনেছিল কেন্দ্র। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন না পাওয়ায় সেই বিল কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য আরেকটি সংবিধান সংশোধনী বিল এনে লোকসভায় নিজেদের শক্তি যাচাই করা।


২০ জুলাই থেকে শুরু হবে সংসদের বাদল অধিবেশন। সেখানে সরকার যে বিলটি আনার কথা ভাবছে তাতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের কোনও মন্ত্রী যদি ৫ বছরের বেশি কারাদণ্ড হতে পারে এমন অপরাধে গ্রেফতার হয়ে টানা ৩০ দিন জেলে থাকেন তাহলে ৩১তম দিনে তাঁর পদ চলে যাবে। গত বছর এই বিলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে পেশ করেছিলেন, তারপর এটি আলোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।


সংসদের এই কমিটির দায়িত্ব রয়েছেন বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারেঙ্গি। ১৭ জুলাই যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই বিল সংক্রান্ত রিপোর্ট গৃহীত হবে। এবং বাদল অধিবেশনে এই বিল পাশ করানোর চেষ্টা করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত বাদল অধিবেশন চলবে। তার মধ্যে এই বিলটি আনার কথা ভাবছে কেন্দ্র।


সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ হতে দরকার দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন। ২০২৪ লোকসা নির্বাচনে বিজেপি ২৪০-এ আটকে গিয়েছিল। এনডিএর অন্যান্য দলের সাংসদ মিলিয়ে সরকারের পক্ষে ঘোষিত সংখ্যা ২৯৪। সম্প্রতি ২০ তৃণমূল সাংসদ এনসিপিআই নামে একটি দলে যোগ দিয়ে সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার ৬ সাংসদ যোগ দিয়েছেন এনডিএতে। সব মিলিয়ে ৩২০ সাংসদ রয়েছে সরকার পক্ষে।


তামিলনাড়ু ভোটে পালাবদল হতে ডিএমকের সঙ্গ ছেড়েছে কংগ্রেস। ডিএমকের ২২ সাংসদ সরকারকে সমর্থন করলেও সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪২। এদিকে, ৫৪৩ সাংসদের লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ হল ৩৬২। দুটি আসন খালি থাকায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করতে সরকারের দরকার ৩৬০ সাংসদের সমর্থন। তবু সরকার এই বিল আনতে আগ্রহী, কেননা তাহলে নিজেদের শক্তি পরীক্ষা হয়ে যাবে।


গত বছর এই বিলের বিরুদ্ধে বিরোধীরা বলেছিল, এটা আনা হচ্ছে অবিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের পদ থেকে সরানোর জন্য। দেশের মোটামুটি সব মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই কোনও না কোনও ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাঁদের জেলে রেখে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আনা হচ্ছে এই বিল, মত বিরোধীদের।