ইস্তফাই দিতে হল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে

16

নিউজ ডেস্ক: শেষপর্যন্ত পদত্যাগই করতে হল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষার সংস্কারে গত চার দশক ধরে আমি নিজেকে নিবেদন করে এসেছি। সবসময় বিশ্বাস করেছি, শক্তিশালী, দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে। দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি, ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশাকে আমি গভীর ভাবে শ্রদ্ধা করি। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা আমাদের সকলের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গীকার। দেশসেবাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাতে আমি সবসময় নিবেদিত থাকব। ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওড়িশার জনগণ এবং দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করব।


শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রায় একমাস হয়ে গেল প্রতিবাদ-অবস্থান করছে ককরোচ জনতা পার্টি। সেখানে লাদাখের সমাজকর্মী, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক সহ অনশন করছিলেন নেহা বরা প্রমুখ। সোনমকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় হাসপাতালে। কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যস্থতায় সোনম অনশন ভাঙেন। তারপরও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় ছিল ককরোচ জনতা পার্টি। সোমবার সিজেপির সংসদ চলো অভিযানে পড়ুয়াদের ওপর পুলিশ যথেচ্ছ লাঠি চালায়। পাল্টা পড়ুয়াদের প্রতিবাদে আহত হন কয়েকজন পুলিশকর্মী। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিদেশেও, বিশেষ করে পাশ্চাত্যে, ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ইতিমধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির দুবার বৈঠক হয়েছে। সেখানে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা সহ মূলত তিনটি দাবি জানান সিজেপি প্রতিনিধি আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা সহ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দাবিটি সরকার মেনে নিলেও এক নম্বর দাবি শুক্রবার পর্যন্ত মানা হয়নি। কেন্দ্রের তরফে জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহ জানিয়েছিলেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ফের তাঁরা ‘ককরোচ’দের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তার দেড় ঘণ্টা আগেই তাঁদের প্রথম দাবি মেনে নিল সরকার। উল্লেখ্য, শনিবার সকালেই সিজেপি জানিয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে যদি রাজি না-থাকেন, তবে সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনও অর্থ নেই।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর হাসপাতাল থেকেই X-পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানালেন সোনম ওয়াংচুক।

তিনি এক্স পোস্টে লিখেছেন, “এটি গণতন্ত্রের জয়।” শান্তি, ধৈর্য ও মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিজয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সিজেপি, দেশের Gen Z এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সকল নাগরিককে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে, জবাবদিহির পর এবার প্রকৃত সংস্কারের দাবি তোলেন সোনম ওয়াংচুক।