অসমে বন্যায় মৃত ৯৫

15

নিউজ ডেস্ক: অসমে চলতি বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ১৪ জেলার ১.৬ লক্ষ বাসিন্দা এখনও বন্যায় প্রভাবিত। চলতি বন্যায় অসমে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৫ জন। অসমের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের শেষ বিবৃতি অনুযায়ী ১৪ জেলার ৩৮ রাজস্ব চক্রের ৫৬৩ গ্রামে এখনও জল আছে। প্রভাবিত ১,৬০,৬৫৩ মানুষ। বন্যার জল থেকে মুক্তি পায়নি গোলাঘাট, লখিমপুর, চরাইদেও, শিবসাগর, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, কামরূপ মেট্রো, যোরহাট, শোণিতপুর, তিনসুকিয়া, নগাঁও, দরং, কার্বি আংলং ও ওদালগুড়ি জেলার মানুষ।
নুমলিগড়ে ধনসিড়ি নদীর জল বইছে বিপদসীমার ওপরে। তবে অসমের অন্য কোনও নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে যাওয়ার খবর নেই। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর। এই জেলার ৫৭,২৪৩ বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত, এর পরই রয়েছে গোলাঘাট ৩৩,৮৭১, যোরহাটে ২৪,৯২৩, চরাইদেও জেলায় ২২,১২২, লখিমপুরে ৫,৭৮৭, ধেমাজিতে ৪,৫৩৩, বিশ্বনাথে ৩,৭৪৭, দরংয়ে ৩,৬১৩ এবং নগাঁও জেলার ২,৭৬৪ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। গোটা রাজ্যে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর কৃষিজমি এখনও জলের তলায়।
১৪ জেলায় মোট ১০৪ ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে আশ্রয় শিবির। জল কমলেও অনেকেই এখনও নিজের ঘরে ফিরতে পারেননি। গোটা রাজ্যে আশ্রয় শিবিরে আছেন ১২,৩৫৬ জন। এ ছাড়া আরও ৩২,০৪৮ মানুষ শিবিরের পাশে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে রয়েছে।
জলমগ্ন এলাকায় কাজ করছে প্রশাসনের ৭৬টি নৌকা। এই কয়দিনে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৯১ দুর্গতকে এবং পাশাপাশি ২০টি গরুকে। বন্যায় ভেসে গেছে বেশকিছু রাস্তা, দুটি সেতু। ৭৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গেছে আর ২৬৬ ঘর আংশিক ভেসে গেছে জলের তোড়ে। গোটা রাজ্যে ৩৫ হাজারের বেশি গৃহপালিত জীবজন্তুর মৃত্যু হয়েছে বন্যার জলে।