বাড়িতে চলছিল শেষকৃত্যের আয়োজন, দুর্যোগের ১০দিন পর বেঁচে ফিরলেন চণ্ডিকা! ক্ষীণ আশার আলো দেখছে এভারেস্টের দেশ

25

নিউজ ডেস্ক:হদিশ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আয়োজন করে ফেলেছিলেন শেষকৃত্যের। দুর্যোগের ১০দিন পর বেঁচে ফিরলেন মহিলা। শনিবার সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বৃদ্ধার উদ্ধারের ভিডিও। সেই ভিডিও দেখেই হাসপাতালে ছুটে আসে পরিবারের সদস্যরা। নিজের চোখ-কানকে তাঁরা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।

শনিবার নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী উদ্ধার করে চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠাকে। নুয়াকোট জেলার বিদুর পুরসভা এলাকার বাসিন্দা শ্রেষ্ঠা। গত ২৬ আগস্ট হড়পা বানে তাঁর চারতলা বাড়ি কাদামাটির স্তূপের নীচে চলে যায়। কোনও মতে বাড়ির চারতলায় আটকে ছিলেন ওই মহিলা। তবে, এখনও নিখোঁজ বৃদ্ধার পরিবারের চার সদস্য।

নেপাল পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, কিছু দিন আগেও ওই এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সে সময় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই ভেবে রাস্তা নির্মাণের কাজে নেমেছিলেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।

শনিবার হঠাৎ বাড়ির পাশে খুব ক্ষীণ শব্দ পান উদ্ধারকারীরা। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে শুরু হয় কাদা সরানোর কাজ। পুরো বাড়ি ছিল কাদা মাটির নীচে। জল কিছুটা নামায় চতুর্থ তলার কিছুটা অংশ ছিল ফাঁকা। সেই ধ্বংসস্তূপই আটকে ছিলেন বৃদ্ধা। মাটি সরিয়ে জানাল ভেঙে উদ্ধার করা হয় মহিলাকে।

১০ দিন ধরে কী ভাবে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তিনি আটকে ছিলেন, এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর। তবে, ৬৪ বছর বয়সি চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠার জীবন যুদ্ধের গল্পে আশার আলো দেখছে নেপাল।

উল্লেখ্য, গতমাসের প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত নেপালে মৃত ১,৩৪৪ জন। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। এদিকে, নেপালের ধারচুলা জেলায় ধস নামায় আংশিক ভাবে আটকে গিয়েছে চৌলানি নদীর গতিপথ। এতেই সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। সতর্ক করা হয়েছে নদীর নিম্ন অববাহিকায় থাকা বাসিন্দাদের। প্রস্তুত রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।