কলেজের উপরে বিলাসবহুল বেডরুম! সুরেন্দ্রনাথে এলাহি বন্দোবস্ত ঘিরে চাঞ্চল্য
দেবারতি ঘোষ, কলকাতা: শিয়ালদহ এলাকার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে কলেজের উপরের তলায় এসি-সহ খাট, থাকার ঘর এবং বিলাসবহুল ব্যবস্থার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কার অনুমতিতে কলেজ চত্বরে এমন থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
অভিযোগ, কলেজ ভবনের উপরের একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে থাকার উপযোগী ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে খাট, এসি-সহ একাধিক সুবিধা ছিল। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে বিধায়ক সজল ঘোষের উপস্থিতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বন্ধ থাকা একটি ঘরের দরজা পুলিশ ডেকে ভাঙানো হয়। সজলের অভিযোগ, দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কানকাটা দেবু এবং তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে এইসব কর্মকাণ্ড কলেজে চলত। তাঁদের মাথার উপরে ছায়ার মতো হয়ে মদত দিতেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়।
দরজা খোলার পর ঘরের ভিতরের দৃশ্য ঘিরে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। ঘরের ভিতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল একাধিক সামগ্রী, উদ্ধার হয় মদের বোতল, কন্ডোমও।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার বিকেলে কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে বাক্স ভর্তি টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে সেই টাকার বড় অংশই নষ্ট হয়ে গিয়েছে, উইপোকায় খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস এবং আদৌ কত টাকা ছিল, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে কীভাবে এমন থাকার ব্যবস্থা তৈরি হল? কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল কি না, প্রশাসনের কোনও অংশ বিষয়টি জানত কি না, নাকি দীর্ঘদিন ধরেই আড়ালে চলছিল এই বন্দোবস্ত, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। অন্যদিকে, পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। পুলিশ ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে। কলেজের পরিচালন সমিতির সদস্য দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভেন্ডর তথা তৃণমূল নেতা পরিতোষ দত্তের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেছে মুচিপাড়া থানার পুলিশ। তবে কলেজ ভবনের ভিতরে এমন ব্যবস্থার নেপথ্যে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে ওই ঘর ব্যবহার করা হত, তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।