নিউজ ডেস্ক: ডিব্রুগড়ের আসাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে রোগী ও চিকিৎসা পরিষেবা। ৪৩৪ ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে ১২১ পদ খালি রয়েছে। দুহাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নার্সের সংখ্যা মাত্র ৪৪৯।
চিকিৎসকদের জন্য অনুমোদিত ৪৩৪টি পদের মধ্যে ৩১৩টিতে নিয়োগ হয়েছে। এর অর্থ ২৮ শতাংশ পদ শূন্য পড়ে আছে। ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ইউনিট চলছে কম লোক দিয়ে। জুনিয়র চিকিৎসকদের ঘাটতির জেরেও চিকিৎসা কর্মীদের ওপর কাজের বাড়তি চাপ পড়ছে।
পার্শ্ববর্তী তিনসুকিয়া ও লখিমপুর জেলায় নতুন প্রতিষ্ঠিত মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীদের বদলি করার ফলে চিকিৎসাকর্মী সংকট আরও তীব্র হয়েছে ডিব্রুগড়ের সরকারি হাসপাতালে। তথ্য অনুযায়ী, বদলির কারণে যেসব পদ শূন্য হয়েছিল, সেগুলোয় এখনও নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা গত কয়েক দশকে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় নার্সদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে। ১৯৪৭ সালে যখন এএমসিএইচ-কে মেডিক্যাল স্কুল থেকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করা হয়, তখন হাসপাতালে প্রায় ৯০০ শয্যা ও ৪৪৯ জন নার্স ছিলেন। বর্তমানে শয্যা সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজারে দাঁড়িয়েছে, অথচ নার্সের সংখ্যা সেই ৪৪৯-ই রয়ে গেছে!
পরিস্থিতি এমনই যে রাতের শিফটে একজন নার্সকে ১৫০ থেকে ২০০ রোগীর দেখাশোনা করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির ফলে রোগীর সেবা এবং নার্সিং-সংক্রান্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট নার্স।
ঘাটতি শুধু চিকিৎসা কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মী, অন্যান্য ক্যাটাগরির কর্মীর ক্ষেত্রেও AMCH-এ শূন্যপদ রয়েছে। এদিকে, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী আসে ডিব্রুগড়ের আসাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
AMCH উজান অসমের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র এবং এই অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসেন। এ ছাড়া প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডের রোগীরাও চিকিৎসার জন্য এখানেই প্রথমে আসেন। এর ফলে হাসপাতালের পরিকাঠামো ও জনবলের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রোগ নির্ণয় বা ডায়াগনস্টিক পরিষেবার ওপরও চাপ পড়েছে। জানা গেছে, হাসপাতালের এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন প্রায়ই বিকল থাকে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে রোগীদের, বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছলদের, বেসরকারি ল্যাবরেটরি বা হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়, যেখানে এসব পরীক্ষার জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ হয়।
Prev Post
Next Post