নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে জোর কদমে চলছে ব্রিকস সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি। আর কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ পি চিদাম্বরম বলছেন ব্রিকস সম্মেলন থেকে ভারতের কোনও লাভ হবে না। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিদাম্বরমের মতে, গত দুতিনটি বৈঠক থেকে তিনি কোনও উল্লেখযোগ্য ফলাফল বা সুফল দেখতে পাননি।
দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন প্রসঙ্গে চিদাম্বরম বলেন, ভারত ব্রিকস, সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন, জি-২০ এবং কোয়াড-এর মতো একাধিক বহুপাক্ষিক গোষ্ঠীর সদস্য; কিন্তু এসব গোষ্ঠী থেকে ভারত কী সুনির্দিষ্ট সুবিধা পেয়েছে? প্রশ্ন চিদাম্বরমের।
চিদাম্বরম বলেছেন, কজন রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী আসছেন তা আমার জানা নেই। তবে আমার মনে হয় না যে গত দুতিনটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন থেকে কোনও দৃশ্যমান সুবিধা বা সুনির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়া গেছে।
এরপর চিদাম্বরম যোগ করেছেন, আমরা ব্রিকস, এসসিও, জি-২০ এবং কোয়াড-এর অংশ। কিন্তু এর থেকে আমরা কী সুবিধা পাচ্ছি? তা আমার চোখে পড়ছে না। গত দুতিনটি সম্মেলনে আমি কোনো সুফল দেখিনি। অথচ আগে ব্রিকস সম্মেলন থেকে কিছু দৃশ্যমান সুফল পাওয়া যেত।
কংগ্রেস নেতার মন্তব্যের পাল্টা জবাবে বিজেপি প্রশ্ন তুলেছে কূটনীতি সম্পর্কে কংগ্রেসের বোঝাপড়া নিয়ে।
বিজেপি নেতা নলিন কোহলি বলেছেন, এর মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে যে কংগ্রেস কূটনীতিকে কীভাবে দেখে। ক্ষমতায় থাকাকালীন কংগ্রেস পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের শিকার বলে অভিহিত করেছিল, অথচ পাকিস্তান আসলে নিজেই সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা। কংগ্রেস কি কূটনীতিকে কেবল দেওয়া-নেওয়া হিসেবেই দেখে যে তারা দৃশ্যমান বা সুনির্দিষ্ট সুফলের কথা জানতে চাইছে? প্রশ্ন বিজেপির।
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন। ব্রিকসের সদস্য দেশ এগারো— ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম ব্রিকসের অংশীদার দেশ হিসেবে অংশগ্রহণ করে।
সম্মলনে যেসব শীর্ষ নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতো।
সামগ্রিকভাবে, ব্রিকস বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
Prev Post
Next Post