নিউজ ডেস্ক: সংসদে সতীর্থ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিঠি-বাণের পর বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্য এবার সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের এই সাংসদ। কল্যাণের অভিযোগ, দলে অবজারভার পদ তুলে দিয়ে সব নিয়ন্ত্রণ IPAC-এর হাতে দেওয়াতেই আজ দলের এই হাল।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা কাকলির চিঠি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এদিন কল্যাণ বলেন, ‘২০১১-র পর থেকে এরা সব বড় নেতা বনেছে। এদের নেতা করার জন্য অভিষেকই দায়ী। মুখপাত্র হয়ে গেছে। জেলায় জেলায় ঘুরেছে। বক্তৃতা দিয়েছে। আরে জেলায় গেলে তো জেলার সাংগঠনিক দিকটা দেখতে হবে। দলের অবজারভার তুলে দিয়ে আইপ্যাক নিয়ে এসে দলটা আজ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে গেল। কার মস্তিষ্কপ্রসূত আমি জানি না বাবা। দলে আগে অবজারভাররা ছিল। আমি ছিলাম যেমন বাঁকুড়ার চার্জে। আটানব্বই সাল থেকে করেছি। সিপিএমের আমল থেকে করেছি। জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলা এবং কলকাতা থেকে স্টেপ নেওয়ার একটা সময় থাকে। তারা বলার একটা জায়গা পায়। ২০২১-এর পর সে অবজারভারটাকে তুলে দেওয়া হল। আইপ্যাকের হাতে সব দিয়ে দেওয়া হল। আইপ্যাক নিয়ে আমি যখন বলেছি তখন এই কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা আমার সমর্থনে আসেনি। আজকে কেন বড় বড় বক্তব্য?’
উনিশের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে তাক লাগানো ফল করেছিল বিজেপি। সেই সময় তৃণমূলের অন্দরে আলোড়ন তৈরি হয়। সে সময়ও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই দলের নেতৃত্বের সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করেন। সেই সময় কল্যাণকেও অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়। এদিন সেই বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, ‘২০২২-এ শ্রীরামপুরে পোস্টার পড়েছিল নতুন সাংসদ চাই। আজকে তারা কোথায়? তারা কার লোক?’