আজই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ,মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ সন্ধে ৬ টার মধ্যে হাজিরা দিতে হবে ভবানী ভবনে। স্পষ্ট নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের। তদন্ত সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। আগামী দুই সপ্তাহ তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না । তদন্ত সহযোগিতা করলে তবেই রক্ষাকবচ দেওয়ার কথা ভাবা হবে , জানালেন বিচারপতি। পাশাপাশি এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। দু’সপ্তাহ পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
আজ কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মামলায় আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করার কথা ছিল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু শুনানির আগে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন অয়ন ভট্টাচার্য। শুধু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।
৪টে নাগাদ দিল্লি থেকে ফিরছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাঁকে সিআইডি দফতর ভবানী ভবনে হাজির হতে হবে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পরবর্তী শুনানির আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা যাবে না।
আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে সওয়াল করা হয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজন রয়েছে। তাই তাঁকে গ্রেফতার করা দরকার। পাল্টা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জানান , তদন্ত সহযোগিতা করবেন তিনি। সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাঁর অসুবিধা নেই । তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। রক্ষা কবচের বিষয় শুনেই বেশ খানিকটা ক্ষুব্ধ বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট জানান, তদন্ত সহযোগিতা করলে রক্ষাকবচ দেওয়ার কথা ভাবা যাবে।
অন্যদিকে সূত্রের খবর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর একমাত্র কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহার। বুধবার রাতে ফোন করে তাদের জানানো হয় এই মামলা লড়বেন অয়ন ভট্টাচার্য। বুধবার মামলার আবেদন জানানো হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকেই। আর এরপরেই এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে। ঘনিষ্ঠ মহলে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঔদ্ধত্যের জন্যই তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন। এই বিষয় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা বলবেন।