বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে হবে, বলছেন লভলিনা

30

নিউজ ডেস্কঃ কমনওয়েলথ পদক জেতার পর প্রথমবার ঘরে ফিরলেন অলিম্পিয়ান লভলিনা বরগোঁহাই। বুধবার বরঝাড় বিমানবন্দরে পৌঁছালে ঢালাও সংবর্ধনা দেওয়া হয় লভলিনাকে। খুব শীঘ্রই উজানের বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানালেন সংবর্ধনায় আপ্লুত লভলিনা। লভলিনার সামনে এবার এশিয়ান গেমস। এশিয়াডে সোনা জয়ের টার্গেটের কথাও জানিয়ে দিলেন সোনার মেয়ে লভলিনা।

কমনওয়েলথে পদক জয়ের পর বুধবার ঘরে ফিরলেন অলিম্পিয়ান লভলিনা বরগোঁহাই। গ্লাসগো থেকে নয়া দিল্লি হয়ে গুয়াহাটি পৌঁছান লভলিনা। কমনওয়েলথ পদকজয়ী লভলিনাকে স্বাগত জানাতে আগে থেকেই বরঝাড়ের লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ বিমানবন্দরে জড়ো হন CISF-এর জওয়ানরা।

বিমানবন্দরে পা রাখতেই লভলিনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান তাঁরা। এরপর সাইয়ের তরফেও সংবর্ধনা জানানো হয় লভলিনাকে। প্রথম কমনওয়েলথ পদক জয়ের জন্য লভলিনাকে অভিনন্দন জানানো হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিমানবন্দরেই গুরু গম্ভীর এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

যদিও এই আনন্দ, উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেও উজানের বন্যাদুর্গতদের কথা ভোলেননি লভলিনা। খুব শীঘ্রই বন্যায় বিধ্বস্ত উজানের পীড়িতদের পাশে যাওয়ার কথা জানান লভলিনা। শুধু নিজের যাওয়াটাই নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন অলিম্পিয়ান লভলিনা বরগোঁহাই।

লভলিনার সঙ্গে সাংবাদিকদের আলোচনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে গ্লাসগোর সেই ন্যাপকিন ইস্যুও। ন্যাপকিন ইস্যুতে তাঁর অনড় অবস্থানের কথা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়ে লভলিনা বলেন, উত্তর পূর্ব ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কোনওভাবেই উত্তর পূর্বকে অগ্রাহ্য করা চলবে না। আর তাই আমি এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলাম। মন্তব্য লভলিনার।

উল্লেখ্য, কমনওয়েলথ গেমস চলাকালীন গ্লাসগোর এক রেস্টুরেন্টে এমন একটি ন্যাপকিন দেখতে পান লভলিনা যেখানে ভারতের মানচিত্র আঁকা ছিল। কিন্তু সেই ছবিতে ছিল না নর্থ ইস্ট। গোটা নর্থ ইস্টকেই ভারতের মানচিত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে দেখে এর বিরুদ্ধে সরব হন লভলিনা। পরে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমাও চেয়ে নেয় এবং আগামীতে এমন ভুল আর হবে না বলেও বিবৃতি দেয়।

এখানে এটাও উল্লেখ করা যেতে পারে যে, কমনওয়েলথ গেমসের পর এবার লভলিনার সামনে এশিয়ান গেমস। এবার এশিয়ান গেমসে সোনার লক্ষ্য নিয়েই রিংয়ে নামবেন তিনি, জানিয়ে দিলেন ঘরের মেয়ে লভলিনা।

একদিকে, একের পর এক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে পদক জিতে দেশের জন্য গৌরব কেড়ে আনা, অন্যদিকে দুর্যোগের সময়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা দেওয়া। দুই বিপরীত মুখী ভূমিকায় সাবলীল লভলিনাকে তাই আরও একবার বুকে জড়িয়ে ধরে উজান থেকে নিম্ন, উত্তর থেকে দক্ষিণ, গোটা অসম। হাজারো ব্যর্থতার পরও তাই ঘরের মেয়ের পাশেই দাঁড়ায় অসম।