তীব্র গরম, সকালে স্কুল করার নির্দেশ

8

নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার প্রবেশে এখনও বেশ খানিকটা বাকি। অন্য দিকে, জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহ ও তাপপ্রবাহে কার্যত নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ। এই চরম অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় পড়ুয়াদের কথা ভেবে আগামী ২ সপ্তাহের জন্য রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার পোষিত বিদ্যালয়গুলিতে সকালে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

জেলা স্কুল পরিদর্শকের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত স্কুলে এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, স্কুলের পঠনপাঠনের সময় এক রেখে স্কুলগুলো তাদের নিজেদের সময়মতো স্কুল শুরু করতে পারে। ইতিমধ্যেই বেশকিছু প্রাইমারি, জুনিয়র বেসিক স্কুলে সকাল ৬-১০.৩০ পর্যন্ত ক্লাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেবলমাত্র শনিবার সকাল ৬-৮.৩০ পর্যন্ত ক্লাস হবে।

দক্ষিণবঙ্গ সহ একাধিক জেলায় চলমান এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী দু’সপ্তাহ স্কুলগুলিকে সকালের দফায় ক্লাস পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর। সোমবার বিকাশ ভবনের তরফ থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

বিকাশ ভবনের ওই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলার আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিচার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের সুবিধামতো সকালের সময়সূচি নির্ধারণ ও তা চালু করতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বা গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে যাতে পড়ুয়াদের পড়াশোনার কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল শিক্ষা দফতরের এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (DI) কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক- দুই স্তরের স্কুলের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং এই বিষয়ে স্কুল পরিদর্শকরা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়াদের আগাম নোটিস দিয়ে এই নতুন সময়সূচি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে, যাতে কারও কোনও সমস্যা না হয়।

উল্লেখ্য, এর আগেও তীব্র গরমের কারণে রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চল বাদে বাকি সমস্ত এলাকার সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি বাড়ানো হয়েছিল। প্রথমে ১১ মে পর্যন্ত ছুটি থাকার কথা থাকলেও, গত ১৩ মে এক নির্দেশিকায় সেই ছুটির মেয়াদ ৩১ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। এরপর ১ জুন, সোমবার থেকে পুনরায় স্কুলগুলি খোলে। কিন্তু স্কুল খুললেও গরমের তীব্রতা এখনও কমেনি। পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। এমনকি রবিবার প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ কর্মসূচিতেও দেশবাসীকে এই তীব্র গরম নিয়ে সতর্ক করেছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি সকলকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করার এবং সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।