মণিপুরের নতুন ডিজিপি মুকেশ সিং

29

মণিপুর : মণিপুরের ডিজিপি হচ্ছেন লাদাখের পুলিশ প্রধান মুকেশ সিং। জানুয়ারিতে লাদাখের ডিজিপি হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস মুকেশ সিং। এবার তাঁকে দাঙ্গা বিধ্বস্ত মণিপুরের পাঠানো হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৩ মে মণিপুরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছিল। সেসময়ে মণিপুরের ডিজিপি ছিলেন কুকি-জো সম্প্রদায়ের পি ডনজেল। সংঘাত শুরুর পরই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর পরিবর্তে মণিপুরের কারো হাতে দায়িত্ব না দিয়ে নিয়ে আসা হয় ত্রিপুরার ডিজিপি রাজীব সিংকে। সম্প্রতি রাজীব সিংকে কেন্দ্রের ক্যাবিনেট সচিবালয়ে নিরাপত্তা দফতরের সচিব পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজীব সিংয়ের বর্তমান দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় থাকা স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপ বা এসপিজির প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরি করা। রাজীবের পরিবর্তে মণিপুরের দায়িত্ব আনা হয়েছে সন্ত্রাস দমনে অভিজ্ঞ আধিকারিক মুকেশ সিংকে।
এর আগে কাশ্মীরে জম্মু, রেয়াসি, পুলওয়ামা, পুঞ্চে এসপি, এসএসপির দায়িত্ব পালন করেছেন মুকেশ। পুলওয়ামার এসএসপি থাকাকালীন জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে জখম হয়েছিলেন মুকেশ সিং। সেনা, সিআরপি ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সন্ত্রাস দমনের দায়িত্ব ছিলেন মুকেশ সিং। এ ছাড়া তিনি এনআইএতে কাজ করার সময় কাশ্মীরের সন্ত্রাসে আর্থিক মদতের তদন্ত করেছেন।
মুকেশকে এমন সময়ে মণিপুরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে যখন কুকি বনাম মেইতেই সংঘর্ষ মোড় নিয়েছে কুকি বনাম নাগা সংঘাতের দিকে। কুকিদের হাতে সম্প্রতি ৬ জন নাগা বন্দি, উল্টোদিকে নাগাদের হাতে ১৪ জন কুকির বন্দি থাকার অভিযোগ। নব্বইয়ের দশকে মণিপুরে কুকি-নাগা সংঘর্ষে দুই গোষ্ঠীর ৬৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি যাতে ফিরে না আসে সেটা নিশ্চিত করতে হবে মণিপুরের নতুন ডিজিপি মুকেশ সিংকে।
তিন বছর পেরিয়ে গেলেও মণিপুরে এখনও সংঘর্ষ থামেনি। কুকি-মেইতেই সংঘর্ষে তিন বছরে ২৬০ প্রাণ ঝরেছে। অন্তত ৬০ হাজার মানুষ রয়েছে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে। এক বছর রাষ্ট্রপতি শাসন চলার পর মণিপুরে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন খেমচান্দ সিং।