তৃণমূলের দুই শিবিরকেই ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি দিল না পুলিশ

17

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার বার্তা- ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আর কোনও জনসভা করা যাবে না। কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা পুলিশ। দুই শিবিরকে পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ভিক্টোরিয়া হাউস এবং তার চারপাশে আগের ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি থাকে। বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী এখানে জমায়েত করা নিষিদ্ধ। তাই ২১ জুলাই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালন করতে পারবে না কেউ। ‌

তাহলে কি এবার একুশে জুলাই শহীদ দিবস স্মরণ করা হবে বিকল্প স্থানে? সূত্রের খবর কালীঘাট তৃণমূলের তরফে আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রাখা হয়েছে।‌ কারণ ৩৩ বছর ধরে ভিক্টোরিয়া হাউস এর সামনেই শহীদ তর্পণ হিসেবে ২১ জুলাই পালন করা হয়।‌ একবেলা রাস্তা বন্ধ থাকে । তাই এই জায়গা বাদ দিয়ে বিকল্প জায়গার চিন্তা ভাবনা চলছে।

কী বলছেন ঋতব্রত শিবির? দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান জানাচ্ছেন, ‘‘আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব না। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। দরকারে পুলিশের কাছে আবারও আবেদন জানাব।”

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়। তৃণমূলের দুই শিবির বিভক্ত। দলের প্রতীক, তহবিল নিয়ে আইনি টানাপোড়েন চলছে কলকাতা হাই কোর্টে। কালীঘাট তৃণমূল দ্রুত শুনানির আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়।

প্রতি বছর ২১ শেষ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের মেগা ইভেন্ট।‌ ১৯৯৩ সালের তখনকার যুব কংগ্রেস কর্মীদের মহাকরণ অভিযানে তৎকালীন সরকারপক্ষের গুলি চালনায় ১৩ জনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণে রেখে এই কর্মসূচি করে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ঘটনাস্থল ওই জায়গা বলে সেখানেই শহিদ দিবস উদযাপন করা হয়।

রবিবারে ধর্মতলা গিয়েছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। ডেকরেটর্সকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে মঞ্চ তৈরির জন্য মাপামাপি করেছেন।
সোমবার বিধানসভায় তাঁদের কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশ্ন তুলেছিলেন, পুলিশ অনুমতি ছাড়া কেন আগ বাড়িয়ে মাপামাপি করতে গেলেন? এরপরই হেয়ার স্ট্রিট থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। নোটিস পাঠিয়ে কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়।